চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেলের একমাত্র শোধনাগার পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) শ্রমিক–কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার ইআরএলের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে শোধনাগারের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
শ্রমিকদের ৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন–২০০৬ অনুযায়ী দ্বিবার্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদন, ২০০৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী পার্সোনাল পে বাস্তবায়ন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পদোন্নতি নীতিমালার সংস্কার।
সমাবেশ শেষে শ্রমিক–কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি রিফাইনারির ভিতরে সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে আমাদের দাবিগুলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু দীর্ঘদিন গত হলেও কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবির ব্যাপারে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিক–কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন। অবিলম্বে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে ইআরএল অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমানসহ শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একটি স্মারক জারি করে, যেখানে বিপিসির আওতাধীন কোনো কোম্পানির আর্থিক সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে বিপিসির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার দাবি, এ নির্দেশনা বাংলাদেশ শ্রম আইন–২০০৬ এবং কোম্পানি আইন ১৯৯৪–এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, স্মারকটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইএলও কনভেনশন–৯৮ অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকারের পরিপন্থি। এর ফলে শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে যৌথ আলোচনার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তার অভিযোগ, এ কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতের শ্রমিক–কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তবে তিনি জাতীয় স্বার্থে ইআরএলের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিক–কর্মচারীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন।











