চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বে গত শুক্রবার বিকাল ৫টায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে তার মেহেদিবাগের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন চেম্বারের পরিচালকমণ্ডলী। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন চেম্বার নেতৃত্বের এটি ছিল প্রথম বৈঠক।
বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের ৪৬তম সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বৈঠকটি ছিল অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। একপর্যায়ে আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রূপ নেয় এবং চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো উঠে আসে। বিপিসির সদর দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানোর সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি তিনি তুলে ধরলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জানান, এটি চট্টগ্রামেই থাকবে, ঢাকায় যাবে না।
আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য সহজ করতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ চালু করা, বিমানবন্দর ট্যারিফ কমিয়ে সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি, ফ্ল্যাট রেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আদায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসে আধুনিক ল্যাব স্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদী করা এবং ডিজিটালাইজেশন–এসব বিষয় আলোচনায় আসে। মন্ত্রী বিষয়গুলো আন্তরিকভাবে শোনেন এবং সমাধানের উপায় খুঁজে দেখেন। কিছু বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানও দেন। চট্টগ্রাম চেম্বার ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, ব্যবসা–বাণিজ্য সহজীকরণ, ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া এবং কাঁচামালের ওপর আরোপ করা শুল্ক কমানো–এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জন্য অনুদান হিসেবে জমি দেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এজন্য চট্টগ্রাম চেম্বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বৈঠকে চেম্বারের ২৪ জন পরিচালকের সঙ্গে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের নেতা ও এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম ও বিজিএমইএ পরিচালক ও প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার সরকারের যেকোনো কার্যক্রম, সরকারের নীতি সহায়তার কারণে যে যেকোনো উন্নয়ন কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার আশা প্রকাশ করে।
অর্থমন্ত্রী চেম্বার পরিচালকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এছাড়া তিনি আবুধাবি–দুবাইয়ের আদলে বে–টার্মিনালে তিনটি টার্মিনাল করা এবং চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কীভাবে অংশগ্রহণমূলক করা যায়, তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানো হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী। নবনির্বাচিত চট্টগ্রাম চেম্বার নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এ নিশ্চয়তা দেন। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম–ঢাকা মহাসড়কের বড় দারোগারহাটে পণ্য পরিবহনের ওজন স্কেল নিয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের আর বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বলে নিজের অবস্থান জানান অর্থমন্ত্রী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












