বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় গান, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা, নৃত্য ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে উদযাপিত হলো কবি রবীন্দ্র-নজরুল ও সুকান্তের জয়ন্তী উৎসব। রোববার (৩১ মে) বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন গড়ে তোলে।
‘চেতনার অগ্নিশিখায় সত্যের পথে হোক মানুষের জয়’ এই স্লোগানে এদিন বিকালে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী ১৪৩৩ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুকুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনিবার্ণ বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক অরুণ চন্দ্র রায় এবং উদ্বোধক ছিলেন রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণজিৎ মল্লিক।
জাতীয় সংগীত ও উদীচীর দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাঝে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। শেষে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সুজন বড়ুয়া ও ফাল্গুনী দাশের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য ইলিয়াস মেহেদী, জেলা উদীচীর সাবেক সভাপতি ও সিপিবি নেতা অনুপম বড়ুয়া শংকর, কাউখালী সরকারি কলেজের সহকারী উজ্জ্বল বড়ুয়া, জেলা উদীচীর সহসভাপতি ও রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক আশীষ কুমার বড়ুয়া, সহসভাপতি এম জিসান বখতেয়ার, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য সাগর পাল, রাঙামাটি জেলা নজরুল সংগীত সম্মিলিন পরিষদের সদস্য ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক অপর্ণা দেব রায়, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাচীন যুগ, মধ্য থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চা হয়ে আসছে। আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্য ও বাংলা সংস্কৃতির চর্চা উল্লেখজনকভাবে কমে আসছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যের বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশে এই আধুনিক যুগ ঘোর অন্ধকার যুগে উপনীত হচ্ছে। সংস্কৃতির ওপর ক্রমাগত হামলা, বাধা আসছে। নারী ও শিশুদের জন্য দেশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। সভায় বক্তারা দেশব্যাপী অব্যাহত নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে হামলার প্রতিবাদ এবং বিচার দাবি করেছেন।










