গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে মন ভীষণ অস্থির
সূর্য ডুবে,ইট–পাথরের নগরে নিয়ন বাতি ঝলমলে।
হেঁটে হেঁটে চলে যাই
রবীন্দ্র সরোবরে রুদ্রপলাশ গাছের তলায়
জলের মায়ায়
তারুণ্যের সুঘ্রাণে
বসে আছি একাকী একধ্যানে।
হঠাৎ অস্পষ্ট আওয়াজ কানে বাজে
দূরে অদূরে বহুদূরে কে যেন আমাকে ডাকে।
মন আমার ভীষণ অস্থির আজ
বুক ধুকপুক। ভোরে সাতসকালে যেতে যেতে
হঠাৎ থমকে দাঁড়াই, মন টানে চিত্রার পারে।
দাঁড়িয়ে আছি তীরে মুগ্ধতার আবেশে,
জলে জোয়ার–ভাটার টানে কচুরিপানার দীর্ঘ মিছিল
ছুটে চলে নিঃশব্দে নীরবে। মনে হয় আমি যেন
কচুরিপানার ভেলায় ভেসে বেড়াচ্ছি কী অবলীলায়।
হঠাৎ স্রোতে কচুরিপানার সুরত বদলে যায়,
কী অদ্ভুত কাণ্ড যেন, মাথা ঘুরঘুর করে।
চিত্রার পারে বাস্তব– পরাবাস্তব
মোহন চিন্তায় বিভোর হলাম আরেকবার।
বাঁশঝাড়ে ভোরের পাখির কলতানে
নদীর তীরে ঘাসফুল স্নিগ্ধতার আবেশ ছড়ায়।
সরীসৃপ জেগে ওঠে নড়েচড়ে, উঁকিঝুঁকি মারে
গাছে পাখা আমের ম–ম গন্ধে, ফুলের
সৌরভে মৌমাছিরা শান্তির নিশ্বাস ফেলে।
নগ্নবিকেলে বাঁধা ঘাটের মায়ার জালে
আটকে পড়ে মন
যেন বিচ্ছেদ হবার নয় কখনো—এই বন্ধন।
হঠাৎ কানে ভেসে আসে
আবারো এক অদ্ভুত অস্পষ্ট আওয়াজ
চিত্রার পারে কী মোহন ভায়োলিন বাজে আজ।












