বিদায় হজের ভাষণ এবং আমাদের করণীয়

সাইফুল্লাহ কায়সার | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (.) ১০ হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত প্রায় সোয়া লাখ সাহাবির সামনে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি ‘বিদায় হজের ভাষণ’ নামে প্রসিদ্ধ। এই ভাষণটি কেবল ইসলামের শেষ নির্দেশনাই নয়, বরং মানবতা, মানবাধিকার ও বিশ্বজনীন সাম্যের এক অনন্য এবং চিরন্তন দলিল। ভাষণের মূল বার্তা ও শিক্ষাগুলোকে নিচে ১০টি প্রধান দিক তুলে ধরা হলো: .তাওহিদ ও পরকালের জবাবদিহিতা, . বর্ণ ও জাতিগত ভেদাভেদের অবসান (সাম্য প্রতিষ্ঠা), . অর্থনৈতিক শোষণ ও সুদের বিলুপ্তি, . রক্তপাত ও প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান, . আমানত রক্ষা ও ঋণ পরিশোধ, . নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা, . উত্তরাধিকার ও মুসলিম ভ্রাতৃত্ব, . অধীনস্থ ও দাসদাসীদের অধিকার, . হেদায়েতের মূল উৎস, ১০. ধর্মীয় উগ্রবাদ পরিহার। ভাষণটির শেষ প্রান্তে মহানবী (সা.) সমবেত জনতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘আমি কি আল্লাহর বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি?’ উপস্থিত লক্ষাধিক সাহাবি সমস্বরে উত্তর দিয়েছিলেন ‘হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই পৌঁছে দিয়েছেন।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আকাশের দিকে আঙুল তুলে তিনবার বললেন ‘হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।’

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং আমাদের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখে। আজ সমাজে যত অনাচার, জুলুম আর বৈষম্য রয়েছে তার একমাত্র সমাধান এই ভাষণের আদর্শকে বুকে ধারণ করা। বিদায় হজের এই চিরন্তন বাণীগুলো শুধু মুখে স্বীকার করা নয়, বরং নিজেদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করাই হোক আমাদের মূল অঙ্গীকার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকোরবানি হোক একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য
পরবর্তী নিবন্ধকোরবানির চামড়া: অব্যবস্থাপনা ও হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প