প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় রিতাকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা

ফেনী থেকে আসামি গ্রেপ্তার, খুলশী থানায় মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

নগরীর পাহাড়তলীর কাজী মসজিদ এলাকার সুফিয়া গার্মেন্টস’র কর্মী রিয়া আক্তার রিতা কাজ শেষে বাসাতেই ফিরছিলেন। কিন্তু প্রেম প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়া আব্দুর রহমান শেখ কৌশলে তাকে নিয়ে যান খুলশী থানাধীন ফয়’স লেক এলাকার ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) হাসপাতালের ৫ তলায়। সেখান থেকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রিতাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পুলিশ রিতার লাশ উদ্ধার করলেও তাকে কেউ নিচে ফেলেছে নাকি সে নিজে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেসে বিষয়টি অস্পষ্টই থেকে গিয়েছিল। কিন্তু গত রোববার দিবাগত ভোররাতে ফেনীর সোনাগাজী এলাকা থেকে আব্দুর রহমান শেখকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়। এদিকে গতকাল আব্দুর রহমান শেখকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে খুলশী থানা পুলিশ। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুর রহমান শেখকে শনাক্ত করা হয়। একপর্যায়ে ফেনীর সোনাগাজীতে তার অবস্থান জানতে পেরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে অভিযান পরিচালনাকারী টিমের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এরপরই রিতার মা জমিলা বেগম খুলশী থানায় আব্দুর রহমান শেখের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে বলা হয়, রিতা অন্যান্য দিনের মতো গার্মেন্টস শেষ করে বাসায় ফিরছিল। তখন আব্দুর রহমান শেখ তার পিছু নেয়। আগে থেকেই সে রিতাকে বিরক্ত করতো। পিছু নেওয়ার একপর্যায়ে ফয়’স লেকের মুখে পূর্ব থেকে প্রেম নিবেদন করে আসা আব্দুর রহমান শেখ ফের রিতাকে প্রেম নিবেদন করে। তখন রিতা তাকে আর কোন দিন তার সামনে না আসার জন্য বলে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে বলে কৌশলে রিতাকে ইউএসটিসির হাসপাতাল ভবনের ৫ তলায় নিয়ে যায় সে। সেখানে আব্দুর রহমান শেখের কয়েকজন সহযোগীও ছিলো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে আব্দুর রহমান শেখ ধাক্কা দিয়ে রিতাকে সেখান থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিচে ফেলে দেয়। এতে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় রিতার। তার মাথার খুলি ও মগজ ছিন্নবিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে ছিল।

মামলার এজহারে আরো বলা হয়, আব্দুর রহমান শেখও সুফিয়া গার্মেন্টস এ চাকরি করতো। মারামারি করায় সেখান থেকে ৩৪ মাস আগে তার চাকরি চলে যায়। তারও কয়েক মাস আগে তার সাথে রিতার পরিচয় হয়। চাকরি যাওয়ার পরও রিতাকে আব্দুর রহমান শেখ বিরক্ত করতো বলেও এজহারে বলা হয়।

এদিকে আদালতে রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, আব্দুর রহমান শেখ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, রিতার সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝখানে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। ঘটনার দিন বিকালে রিতাকে নিয়ে সে নগরীর সিআরবিতে গিয়েছিল। সেখানে ঘুরাফেরা শেষ হলে ফয়’স লেক এলাকার ইউএসটিসি হাসপাতাল ভবনে পরিকল্পিতভাবে রিতাকে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হলে রিতাকে সে ধাক্কা নিয়ে নিচে ফেলে দেয়।

প্রসঙ্গত, ১৯ বছর বয়সী রিতা হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং এলাকার বাসিন্দা। নগরীর পাহাড়তলীর নোয়াপাড়া এলাকায় মা, বোন, বোনের জামাই ও ভাইকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাত ৮টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য চসিকের
পরবর্তী নিবন্ধজঙ্গল সলিমপুরে আবার সন্ত্রাসী হামলা