জঙ্গল সলিমপুরে আবার সন্ত্রাসী হামলা

তিন দিক থেকে গুলি ককটেল, এক্সকেভেটরে কাটল রাস্তা, ভেঙে দিল ক্যাম্প যৌথবাহিনীর প্রতিরোধে পিছু হটে, দায়ী করা হলো ইয়াছিন আলীকে

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় মাসের মাথায় রোববার গভীর রাতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক্সকেভেটর দিয়ে এলাকার রাস্তা কেটে যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিন দিক থেকে সন্ত্রাসীরা বৃষ্টির মতো গুলি, ককটেল এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরাও দুই শতাধিক রাউন্ড গুলি করে। এর পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তবে অস্থায়ী ক্যাম্পটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও এলাকায় আগুনে পোড়া একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী রাস্তা কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার জন্য কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াছিন আলীকে দায়ী করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে ব্যাপক অভিযানের পর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল মাস দেড়েক আগে। কিন্তু রোববার রাত ১টা নাগাদ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ত্রিমুখী হামলার ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে এঙকেভেটর দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলার পর যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ সময় এলাকার অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকা যৌথবাহিনীর দেড় শতাধিক সদস্যের সাথে দুই ঘণ্টার বেশি সময় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

গতকাল সকালে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযানে গিয়ে দেখতে পান, এলাকার প্রবেশের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে বড় গর্ত করে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো গাড়ি এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। যৌথবাহিনী গাড়ি রেখে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে এলাকায় গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

বায়েজিদ লিংক রোডের এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীত দিকে পাহাড়ের ভিতরে যে রাস্তাটি গেছে সেটিই মূলত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের রাস্তা। রাস্তাটির খেজুরতলা, পাথরিঘোনা ও আলীনগর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় চারটি স্থানে এঙকেভেটর দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলা হয়। ফলে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের কোনো গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে করে গাড়ি রেখে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যৌথবাহিনীর সদস্যদের অভিযানে যেতে হয়।

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ চলছিল। ইতোমধ্যে ক্যাম্পটির ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু রোববার রাতে সন্ত্রাসীরা এঙকেভেটর দিয়ে ক্যাম্পটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ট্রাকে করে এঙকেভেটর নিয়ে আসে সন্ত্রাসীরা। ট্রাকের পেছনে বেশ কিছু মোটরসাইকেলে সন্ত্রাসীরা স্কট দিয়ে আসছিল। তারা আলীনগর স্কুলের পূর্ব, পশ্চিম এবং দক্ষিণ পাশ থেকে হামলা শুরু করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গুলিও ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের হামলার জবাবে ক্যাম্পে থাকা যৌথবাহিনীর সদস্যরা পাল্টা জবাব দেয়। দুই পক্ষে প্রচুর গোলাগুলি হয়।

পুলিশ বলেছে, গত ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দলের উপর হামলায় র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ প্রশাসনের আলোচিত অভিযানের পর আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএনের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। রোববার রাতে বিভিন্ন দিক থেকে ওই ক্যাম্পে হামলার এক পর্যায়ে পূর্ব দিক থেকে একটি দল এসে নির্মাণাধীন ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা লাঠিসোঁটার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করেছে। সন্ত্রাসীরা পাথর ও গুলি ছুড়ে লাইট পোস্টের সবগুলো বাল্ব নষ্ট করে এলাকা অন্ধকার করে দেয়। ক্যাম্পের শ্রমিকদের শেডে ঢুকে কয়েকজন শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করে।

অভিযানকালে র‌্যাব৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। রোববার রাত ১টার দিকে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনী হামলা চালায়। এরপর দুই ঘণ্টা ধরে সেখানে গোলাগুলি হয়। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে কয়েকটি স্থানে সড়ক কেটে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, আলীনগরের সন্ত্রাসী ইয়াছিন গ্রুপের দুইতিনশ সন্ত্রাসী এই হামলা চালিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রামদার পাশাপাশি একে৪৭, চায়নিজ রাইফেল এ ধরনের অস্ত্র নিয়ে তারা যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয় জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচুর পরিমাণে গোলাগুলি হয়েছে। তবে কেউ আহত হয়নি। আমাদের বেশির ভাগ টিয়ার শেল ও শটগানের বুলেট খরচ হয়েছে। লাস্ট মোমেন্টে তারা যখন একে৪৭ রাইফেল দিয়ে ফায়ার করেছিল, তখন আমাদের সদস্যরাও রাইফেল দিয়ে ফায়ার করেছে। এঙকেভেটর দিয়ে স্কুলের পেছনের সীমানা প্রাচীরের দুই জায়গায় ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখান থেকে গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। যৌথবাহিনীর নতুন যে ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছিল সেটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। ক্যাম্পটাতে তারা প্রচুর ভাঙচুর এবং ক্ষতি করেছে।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাস্তা কেটে রাখায় আমাদের হেঁটে আসতে হয়। এতে বেশ সময় লেগে গেছে। আমরা যখন এলাকায় পৌঁছাই ততক্ষণে সন্ত্রাসীরা পালিয়েছে। কিছু সন্দেভাজনকে পেয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সম্পৃক্ততা পেলে গ্রেপ্তার করা হবে। না হয় ছেড়ে দেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আলীনগর এলাকায় আমাদের নতুন যে ক্যাম্পটা করা হচ্ছিল ওটার প্রতি তাদের বিশেষ আক্রোশ ছিল। সেটা ভাঙার জন্য এঙকেভেটর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে এসেছিল। কিছু অংশ তারা ভেঙেও ফেলেছে। আলীনগর স্কুলের ক্যাম্পে পুলিশ, র‌্যাব, আরআরএফ ও এপিবিএনসহ মোট ১৫০ জন সদস্য ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সদস্যরা যারা আলীনগর স্কুলে ছিল তারা যাতে প্রটেক্ট করতে না পারে, ওটা যাতে তারা নির্বিঘ্নে করতে পারে, সেজন্য এখানে এসে গোলাগুলি করে। আমাদের যারা সদস্য ছিল তারা শক্তভাবে প্রতিরোধ করেছে। পুলিশকে প্রায় ১০৫ রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়েছে। সাথে সাথে আমরাও মুভ করেছিলাম। শক্ত প্রতিরোধের কারণে তারা দ্রুত এখান থেকে সরে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। আমরা এসে ওদেরকে পাইনি। ওদের রেখে যাওয়া এঙকেভেটর, ভেকু মেশিন, ট্রাক, দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছি।

প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা দাবির দেড় মাস পর কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা চালানো সম্ভব হলোএ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে এবং তারা এখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করেছে। এটা বিরাট একটা সাম্রাজ্য। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসার কারণে এ সাম্রাজ্যে তাদের ইন্টারেস্টে ভাটা পড়েছে। তারা মুখিয়ে ছিল যেকোনো সময়ে এটার ব্যাপারে কাউন্টার কোনো কিছু করবে। দীর্ঘদিন যেহেতু তাদের সাম্রাজ্য ছিল, এখানে একটু সময় লাগবে।

একই প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব৭ অধিনায়ক হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ের ভেতর দিয়ে এঙকেভেটর আনা হয়েছে। রাস্তা কাটাসহ সব কাজ কম সময়ের মধ্যে করেছে। এক ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করে হামলা করেছে। তারা চর্তুদিক থেকে হামলা করেছে। ইটপাথরও মেরেছে। সামনে ককটেল মেরেছে। তিনি বলেন, পাহাড়ের উপরে নির্মিত কিছু টিনের ঘর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে বাকি প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা হামলা করেছে।

হামলার মোটিভ কী? জানতে চাইলে র‌্যাব৭ অধিনায়ক বলেন, ইয়াছিন গ্রুপ প্রায় ১৮২০ বছর ধরে এই এলাকায় একটা নিজস্ব রাষ্ট্র তৈরি করেছে। সেখানে আমরা অভিযান পরিচালনা করে তাকে উৎখাত করেছি। তারা স্বার্থের জন্য, সরকারকে বিব্রত করার জন্য সবকিছুই করছে। সে যেহেতু ক্রিমিনাল, তার সব খারাপ ইস্যু নিয়েই সে এই হামলা করেছে।

এদিকে আগামী ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের। তার আগেই যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালাল সন্ত্রাসীরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে র‌্যাব৭ অধিনায়ক বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না। কালকে করেছে সাডেনলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় আসবেন, এটা আমাদের কনসার্নে আছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব নিরাপত্তা দেওয়ার।

গতকালের অভিযানে বেশ কয়েকজনকে ধরা হলেও অধরা রয়ে গেছেন ইয়াছিন আলী। তারই নিয়ন্ত্রণে গত রোববার রাতে জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গত রাতে জানান, ঘটনার ব্যাপারে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে র‌্যাব৭ প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুর অনেক বড় একটা পাহাড়ি এলাকা। মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের কমিউনিকেশন। সব সময় আমরা একটা জিনিসের প্রবলেম ফেইস করছি। আমরা যেদিক দিয়েই আসি, কোনো দিক দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারি না। গাড়ি এলেও খুব স্লো আসে। দ্রুত গতিতে এসে পৌঁছাতে পারি না। সে কারণে আমরা ঢোকার সাথে সাথে সে আরেক দিক দিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। পাহাড়ের ভেতরে একজন মানুষকে খুঁজে বের করা ডিফিকাল্ট। যদি রাস্তাঘাটগুলো ঠিক হয়ে যায়, তাহলে এই এলাকায় আর তার লুকিয়ে থাকা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, গাড়ির রাস্তা যদি ঠিক থাকে, যোগাযোগ ব্যবস্থাটা যদি ঠিক থাকে, বায়েজিদ লিংক রোড থেকে এ পর্যন্ত যদি পাকা রাস্তা পাই, ৫ মিনিটে পৌঁছে যাব। তখন সে পালানোর সুযোগ পাবে না।

কে এই ইয়াছিন? : স্থানীয় লোকজনদের ভাষ্য, ২০০২০৩ সাল থেকে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে বসতি শুরু হয়। জঙ্গল সলিমপুরের পুরো ছিন্নমূল এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয় ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য। আলীনগর এলাকাটি আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে পরিচালিত হলেও তার পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে ইয়াছিনের হাতে।

এই সমিতি দেখাশোনা করেন ইয়াছিনের ছোট ভাই ওমর ফারুক ও ভাগ্নে আনোয়ার। এছাড়া রয়েছেন নুরুল হক ভাণ্ডারী, মোর্শেদ, কালা ফারুক, মেহেদী হাসান নামে আরো কয়েকজন। যৌথবাহিনীর অভিযানের পর তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় জঙ্গল ছলিমপুরের ওই অংশে এসে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। তবে বর্তমানে সেখানে নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও জায়গা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছে সরকারি কর্মকর্তারাও।

একসময় আমিন টেঙটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ইয়াসিন। ছিন্নমূল এলাকার নেতা আলী আক্কাসের সঙ্গে সলিমপুরে আসেন তিনি। এরপর আক্কাস ছিন্নমূলের নিয়ন্ত্রণ নিলে ইয়াসিন নেন আলীনগরের নিয়ন্ত্রণ।

সলিমপুরের পাহাড়ে এই অবৈধ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০০৪ সালে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১০ সালে স্থানীয় লাল বাদশা ও আক্কাসের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই বছরের ২৩ মে র‌্যাবের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে আক্কাস নিহত হন। এরপর ছিন্নমূল এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ‘সমাজের’ বিভিন্নজনের কাছে। তবে আলীনগরে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরো পোক্ত করেন ইয়াছিন।

স্থানীয়দের দাবি, একসময় শুধু আলীনগর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ছিল ইয়াছিনের হাতে। ২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে চলে যায়। এলাকাটি কীভাবে চলবে, কে আসবে, কে যাবে বা কারা বসবাস করবে, সবই ইয়াছিনের মর্জির উপর নির্ভরশীল। তাদের ভাষায়, ‘এটা ইয়াছিনেরই সাম্রাজ্য’।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় রিতাকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা
পরবর্তী নিবন্ধপবিত্র হজ আজ