র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে ১৫০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য

নতুন কোচ টমাস ডুলি

স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার , ২৩ মে, ২০২৬ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

ক্রিস কোলম্যান নাকি বার্ন্ড স্টর্ক, এই প্রশ্ন বহুদিন ধরেই ঘুরেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আশেপাশে। কিন্তু শেষমেশ বাংলাদেশের কোচ হয়ে এলেন গায়ানার সাবেক কোচ যুক্তরাষ্ট্রের টমাস ডুলি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। তিনি দলটির অধিনায়ক ছিলেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে। গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানায় বাফুফে। গতকাল সকালে এমিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের নতুন এই কোচ। তিনি আসার পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বাফুফে। তবে বাফুফে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। এর আগেই এক চমকপ্রদ ঘটনার জন্ম দেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ)। গতকাল শুক্রবার বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ‘সারপ্রাইজ’ অতিথি হিসেবে হাজির হন ডুলি। দেশের সাবেক ও বর্তমান তারকা ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলায় প্রথমবারের মতো অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের দর্শন ও ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে ডুলি জানান, তার মূল লক্ষ্য র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি এবং দলের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনা। তিনি বলেন, ‘আমার বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো দলকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। আমি সুন্দর ফুটবল খেলতে পছন্দ করি। বলের পেছনে অকারণে ছুটে বেড়ানো বা চেজিং ফুটবল আমার পছন্দ নয়। বল পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু শুধু দৌড়ানোর কোনো মানে হয় না।’ বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে পেছনের সারিতে থাকা বাংলাদেশ দলকে এক বছরের মধ্যে ১৫০ থেকে ১৬০এর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য জানালেন তিনি। ডুলি বলেন, ‘যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বাস্তববাদী হতে হবে। ১৬০ বা ১৫০ র‌্যাংকিংয়ে যাওয়া সম্ভব, তবে তা রাতারাতি হবে না। এটি একটি প্রক্রিয়া। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি অর্জন করা যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘গত ২৩ বছর ধরে আমরা কিছুই জিতিনি। এখন সময় এসেছে সেটা বদলানোর।’ সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন এই কোচ। নিজের লেখা বই ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার’এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সাফল্যের চারটি স্তম্ভ রয়েছে, যার অন্যতম হলো মানসিকতা। মানসিকতা বদলানো মানে আপনার চিন্তাধারার পরিবর্তন। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে জীবনে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমি আমার খেলোয়াড়দের এই বিষয়টাই বোঝাতে চাই।’ বাংলাদেশের দর্শকদের ফুটবল উন্মাদনা এবং তাদের প্রত্যাশার চাপ সম্পর্কেও আগে থেকেই সচেতন ডুলি। এশিয়ায় এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দল এবং মালয়েশিয়ায় কাজ করার সুবাদে এই অঞ্চলের ফুটবল সংস্কৃতি তার বেশ চেনা। দক্ষিণ আমেরিকায় কাজ করলেও তার স্বপ্ন ছিল আবার এশিয়ায় ফেরা। তাই বাংলাদেশের প্রস্তাব পেয়ে দেরি করেননি তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিজিএইচএস ফুটসাল কার্নিভাল ৩০ মে শুরু
পরবর্তী নিবন্ধআইআইইউসিতে অ্যানুয়াল অ্যাথলেটিক মিট সমাপ্ত