মানসম্পন্ন ও গুণগত শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষা অর্জনের কৌশল অবলম্বনে একজন দক্ষ শিক্ষক জাতির কর্ণধার হিসেবে কাজ করে। শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। জীবনের মধুর দিনগুলোকে আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে একজন শিক্ষক স্বপ্ন বুনেন তার আপন আলোয়। আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলী আমরা অনেকেই জানি। একজন শিক্ষক শত শত গুণের অধিকারী হন। এত গুণাবলী একসাথে থাকে বলেই, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজের পরিচয়কে মেলে ধরতে পারেন। গবেষণা বলছে, একজন আদর্শ শিক্ষকের নানা ধরনের গুণাবলী রয়েছে। তবে এই পাঁচটি গুণ আদর্শ শিক্ষকের অবশ্যই থাকা উচিত। ১.একজন আদর্শ শিক্ষক সময় মতো ক্লাসে যান।কখনো তিনি দেরি করে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন না। ২. সৎ থাকা। বিশেষ করে ছাত্রদের কাছে সৎ থাকা। ৩. ছাত্রদের উৎসাহ দেওয়া ও সঠিক গাইডলাইন দেওয়া, সঠিক পথ বা দিক নির্দেশনা প্রদান করা। ৪. ছাত্রদের কথা মন দিয়ে শোনা। ৫. ছাত্ররা যেন শিক্ষকের পাঠ সম্পর্কে বোঝে তা নিশ্চিত করা।
শুধু পাঠদান নয়, ছাত্র–ছাত্রীদের মানসিক অবস্থার খোঁজ খবর নেওয়াও আর্দশ শিক্ষকের দায়িত্ব। মানুষ গড়ার কারিগর যারা, তারাই গড়ে তুলবে আগামী প্রজন্মের পৃথিবীকে। এমনকি একজন ছাত্রের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের সময়ও শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষক শুধু ক্লাসে পাঠদানই করেন না। বরং বুঝতে পারেন ছাত্রের আবেগ, অনুভূতি, সৃজনশীলতা, মনশীলতা, জ্ঞান ও যোগাযোগ দক্ষতা। শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষকের ভূমিকা অপারিসীম। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উকিল, অন্যান্য সব ধরনের পেশার মানুষ গড়ে তুলতে একজন শিক্ষক প্রধান ভুমিকা পালন করেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে ও শিক্ষার বাস্তব জ্ঞানমূলক আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষক এক অবিস্মরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। ছাত্ররা যখন তৈরি হয়ে উঠে ভবিষ্যতের পথে সফল যাত্রা শুরু করে, তখন সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন একজন শিক্ষক। স্বপ্ন, বিশ্বাস আর অদম্য ইচ্ছে শক্তি নিয়ে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তবে শিক্ষাকে আরও গুণগত ও মান–সম্মত করতে, দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা আবশ্যক। যেহেতু শিক্ষক জাতি গঠনে এক বিশাল ভূমিকা রাখে, তাই জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে ও গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।











