ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ যেন অপমৃত্যুর হটস্পট। গতকাল কেবল এক দিনেই মহাসড়কে গাড়ি চাপায় প্রাণ গেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের। পাশাপাশি রেল লাইনের পাশ থেকেও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বার আউলিয়া, ছোট দারোগারহাট, কুমিরা ও বাড়বকুণ্ড এই ৪টি স্পটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. হাসানসহ তার সঙ্গীয় শিক্ষার্থীদের ২০ জনের একটি গ্রুপ মীরসরাই উপজেলা থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার আকিলপুর সমুদ্র সৈকতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি খোলা ট্রাক যোগে কুমিরা অকিলপুর সমুদ্র সৈকতে যাচ্ছিল। এসময় কুমিরায় তাদের গন্তব্যে পৌঁছার পর শিক্ষার্থীরা সবাই গাড়ি থেকে সড়কের পূর্বপাশে নামলেও হাসান মহাসড়কের পশ্চিমে নামে। এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত শিক্ষার্থী মীরসরাই থানাধীন হাদি ফকিরহাট মির্জাপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র এবং একই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নয়দুয়ারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মুসলিমের ছেলে।
অপরদিকে ভোরে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় হারুনুর রশিদ (৫৪) নামের এক ব্যক্তি মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তি সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মহরম আলীর ছেলে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল হক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গাড়িটি সনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে একইদিন সকালে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মুসা কলোনী সংলগ্ন এলাকায় রেল লাইনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির (৪৫) লাশ পড়ে থাকতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেইটম্যানসহ স্থানীয়রা রেল পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাউন লাইন এর পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেন থেকে পড়ে গেলে অথবা ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হলে শরীরে যে ধরনের জখম হওয়ার কথা ছিল সেটি দেখা যায়নি। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই দীপক দেওয়ান বলেন, খবর পেয়ে বাড়বকুণ্ড এলাকার রেল স্টেশন মুসা কলোনী সংলগ্ন রেল লাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছি। তার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে নিয়ে এসেছি আমরা। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তার বয়স আনুমানিক ৪৫। এখনো নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের ভার দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মো. রোস্তম আলী (৬৯) নামের এক বৃদ্ধ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোট দারোগারহাট এলাকার রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে চাপা দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে। রোস্তম আলী উত্তর পশ্চিম ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারিশ ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা মো. তমিজ উদ্দিনের ছেলে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রব্বানী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।












