ঢাকার পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনাগুলো দেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে সামনে এনেছে বলে মনে করে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত শিশু ধর্ষণের কমপক্ষে ১১৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আছে ৪৬টি। এছাড়া ধর্ষণের পর এবং ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কমপক্ষে ১৭টি শিশুকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সামাজিক জবাবদিহিতার সংকটের প্রতিফলন। খবর বিডিনিউজের।
শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন ও নীতিমালা থাকার পরেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত শিশুদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো একদিকে যেমন গভীর শোক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, অন্যদিকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আস্থাও অনেক সময় প্রশ্ন তুলতে পারে।
আসক মনে করে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার প্রতিটি ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে তদন্ত কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি, যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, শিশুদের সুরক্ষা কোনো নীতিগত অঙ্গীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব, মানবাধিকারের মৌলিক শর্ত এবং সভ্য সমাজের ন্যূনতম মানদণ্ড। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা শুধু আইনগত ব্যর্থতাই নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও মানবিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।










