পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের ভার চাপিয়েও সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ

| মঙ্গলবার , ১৯ মে, ২০২৬ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

১৩৭ রানের ইনিংস খেলার পর শেষ বিকেলে ফিল্ডিংয়ে নামেননি মুশফিকুর রহিম। তবে দিনের খেলা শেষে তাকে দেখা গেল মাঠে। তার পিঠ চাপড়ে দিলেন দলের কেউ কেউ, তিনি সবার সঙ্গে হাত মেলালেন, কাউকে কাউকে বুকে জড়ালেন। মাঠ ছাড়ার সময় সবার মুখেই চওড়া হাসি। জয়ের সুবাস তারা হয়তো পাচ্ছেন। তবে হাসিখুশি সেই ছবিটার আড়ালে খানিকটা আক্ষেপও তাদের আছে। রান যে আরও বেশি হলো না!

যা হয়েছে, সেটিই অবশ্য ক্রিকেট ইতিহাসের সব দলের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে এত বছর ধরে। সিলেট টেস্টে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে এত বেশি রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা আর নেই। তার পরও বাংলাদেশ দলে আফসোস আছে। দিনের খেলা শেষে তাইজুল ইসলাম বললেন, আরও কিছু রান করতে চেয়েছিলেন তারা। এখানে সন্তুষ্টির কোনো বিষয় নেই। (ইনিংস) আরও একটু লম্বা করতে পারলে হয়তো দলের জন্য আরও ভালো হতো। উইকেট এখনও ভালো। আমরা যদি আরেকটু ভালো জুটি গড়তে পারতাম, তাহলে হয়তো ভালো হতো। খবর বিডিনিউজের।

তাইজুল নিজের কাজটা অবশ্য ভালোভাবেই করেছেন। আসল কাজ বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছেন তিনটি। ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক জুটি। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যোগ করেন ৭৭ রান। বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট বোলার নানা সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ব্যাট হাতে। ৩৪ বছল বয়সী ক্রিকেটার জানালেন, ব্যাটিংয়ে বেশ গর্ব খুঁজে নেন তিনি।

আমি যেটুকুই ব্যাটিং পারি বা করি, আসলে আমার স্কিল কত ভালো, আমি জানি না। তবে আমার মনের মধ্যে একটা সাহস কাজ করে যে, আমি পারব। আমার সঙ্গে যদি ব্যাটসম্যান থাকে, আমি চেষ্টা করি তার সঙ্গে কতটুকু জুটি গড়ে স্কোর বাড়ানো যায়। আমি ভাবি যতক্ষণ স্কোর করতে পারব, হয়তো দলের জন্য লাভ হবে। সেদিক দিয়ে নিজের ভেতরে ‘ব্যাটসম্যানব্যাটসম্যান’ একটা ভাবনা আসে আর কী। আসলে অনেকদিন ধরে খেলছি। এই সময়ে এসেও যদি দলকে ২০৩০৪০ রান না দিতে পারি, এটা একটা বড় ব্যর্থতা। যদিও পাকিস্তানের সামনে বিশ্বরেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ, তবে উইকেট এখনও ভালো থাকায় বোলারদের কাজটা সহজ হবে না বলেই মনে করেন তাইজুল। যতই চতুর্থ ইনিংস হোক, উইকেট এখনও ভালো। তবে দিনশেষে তাদের লক্ষ্যটাও দেখতে হবে। তারা যখন সংখ্যাটা (৪৩৭) দেখবে, হয়তো মাথায় অনেক কিছু কাজ করতে পারে। উইকেট যেমন ভালো আছে, তেমনি আমাদেরও ডিসিপ্লিনড থাকতে হবে। এখানে যারা ভালো করবে, ম্যাচ তাদের দিকে আসার সম্ভাবনা বেশি। এখানে ডিসিপ্লিনড থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু
পরবর্তী নিবন্ধঅস্ট্রিয়ার মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে ‘রইদ’