আউট হতেই মাথা নিচু করে ফেললেন মুশফিকুর রহিম। শরীরটাকে কোনোরকমে টেনে নিলেন মাঠের বাইরে। সেখানেও লাথি মেরে বসলেন কিছু একটিতে। নিজের আউট যেন মানতেই পারছিলেন না তিনি। অথচ তার নামের পাশে তখন ১৩৭ রান, দলের লিড ৪৩৬! বাংলাদেশের এই দলের মানসিকতা যেন ফুটে উঠল তাতে। তাড়নার সেখানে শেষ নেই!
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাইজুল ইসলাম বললেন, আরও কিছু রান তারা করতে চেয়েছিলেন। মুশফিকের হতাশা সেখানেই। তবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস বলবে, বাংলাদেশ যা করেছে, জয়ের জন্য তা যথেষ্টরও বেশি। পাকিস্তানকে জিততে হলে টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে গড়তে হবে অনন্য কীর্তি! খবর বিডিনিউজের।
সিলেট টেস্টে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। এত রান তাড়ায় জয়ের নজির টেস্ট ইতিহাসে একটিও নেই। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে সোমবার অলআউট হয় ৩৯০ রানে। চতুদর্শ টেস্ট সেঞ্চুরিতে ২৩৭ বলে ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক। শতরানের আগে তাকে একটু উত্যক্ত করে মনোযোগ নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। সেঞ্চুরি করে খ্যাপাটে উদযাপনে হুঙ্কার ছুড়ে জবাব দেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। মুমিনুল হককে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন তারই। প্রথম ইনিংসে অসাধারণ শতরানের সঙ্গে লিটন কুমার দাস এবার যোগ করেন ৬৯ রান। গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে শেষ দিকে অবদান রাখেন তাইজুল ইসলামও।
৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। সকালে আকাশ ছিল মেঘলা। উইকেটে ছিল মুভমেন্ট। পাকিস্তানি পেসাররা বোলিংও করছিলেন ভালো। নড়বড়ে কিছুটা সময়ের পর দ্রুতই আউট হয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৬ বলে ১৫)। মুশফিক সেই সময়টা কাটিয়ে দেন সাবধানে। লিটন অবশ্য কোনো অস্বস্তিতেই পড়েননি, শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই খুররাম শাহজাদকে চার মারেন তিনি কাভার ড্রাইভে, একটু পর হাসান আলিকে বাউন্ডারি পুল শটে।
প্রথম ঘণ্টার পর উইকেট কিছুটা সহজ হয়ে আসে, আকাশে মেলে রোদের ঝিলিক আর মুশফিক–লিটনের ব্যাটে বাড়তে থাকে দ্যুতি। ৬৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন লিটন, ১০৩ বলে মুশফিক। লাঞ্চের পর একটু ছটফট করছিলেন লিটন। বেশ কয়েক দফায় চেষ্টা করেন বড় শট খেলার। শর্ট বলে তাকে বারবার নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন হাসান আলি। এক পর্যায়ে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ব্যাট পেতে দেন। থার্ডম্যান সীমানায় ধরা পড়ে শেষ হয় ইনিংস।
পাকিস্তানের যন্ত্রণার অবশ্য শেষ হয়নি তাতে। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তার জুটি থামে ৩৪ রানে। তবে মুশফিক ও তাইজুল মিলে পিষে ফেলেন পাকিস্তানের ম্যাচে ফেরার আশা। পাকিস্তানি বোলারদের সব প্রচেষ্টা মাড়িয়ে তারা বাড়াতে থাকেন রান। শান মাসুদের সঙ্গে মুশফিকর সেই ঘটনার রেশ ধরেই সাউদ শাকিলের সঙ্গে লেগে যায় তাইজুলের। পরের বলেই বাউন্সারে সপাটে পুল করে চার মেরে জবাব দেন তাইজুল। মুশফিক শতরানে পা রাখেন ১৭৮ বলে। এরপরও ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি অনেকটা। ছক্কার চেষ্টায় তাইজুলের ইনিংস শেষ হয় ২২ রানে। জুটি থামে ৭৭ রানে। প্রথম ইনিংসেও লিটনের সঙ্গে ৬০ রানের মহামূল্য জুটি গড়েছিলেন তিনি।
এরপর দ্রুত রান তোলার চেষ্টাতেই আউট হন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়ে মুশফিকের বিদায়ে শেষ হয় ইনিংস। শেষ বিকেলে দুই ওভার খেলে রান করতে পারেনি পাকিস্তান, হারায়নি উইকেটও। তবে ম্যাচের বাকি দুই দিন। ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তাটুকু বাদ দিলে বাস্তবতা বলছে, পাকিস্তানকে বাঁচাতে পারে কেবল বৃষ্টি।











