আর মাত্র দুটি বল টিকে থাকলেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হতো স্বস্তির আবহে। শেষ বিকেলে মোমিনুল হকের আউট বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে একটু অস্বস্তি এনে দেয়। দিনের শেষ ওভারে খুররাম শাহজাদের চতুর্থ বলটি খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন মোমিনুল হক। তাতেই একটু অপূর্ণতা থেকে যায় বাংলাদেশের দুর্দান্ত একটি দিনের শেষে। সেই উইকেট না পড়লে দিনের সমাপ্তিতে বাংলাদেশের স্কোর হতো ২ উইকেটে ১১০; লিড দাঁড়াত ১৫৬ রান। তবে শেষ বিকালের সেই আক্ষেপ বাদ দিলে সিলেট টেস্টের এ দিনটি ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল দ্বিতীয় দিনে ব্যাট–বল দুই বিভাগেই পাকিস্তানকে চাপে রেখেছে স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতেই সফরকারীদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪৬ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনশেষে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড ১৫৬ রান। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা খুব স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের। দ্রুতই ফিরে যান অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। খুররাম শাহজাদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল লেগে খেলতে চেয়েছিলেন তানজিদ। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় গালিতে থাকা সাউদ শাকিলের হাতে। প্রথম ম্যাচে আশা দেখানো তানজিদের অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৪ রানে। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মোমিনুল হক ও ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় মিলে ইনিংস সামলে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শটে নিজের ইনিংসটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়। তবে ৭৬ রানের জুটি হতেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফ্লিক খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তার আগে অবশ্য ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। সবমিলিয়ে ৬৪ বলে ১০ চারে সাজানো জয়ের ৫২ রানের ইনিংসটি। জয়ের আউটের পর বাকি সময়টা অনায়াসেই কাটিয়ে দিতে পারতেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোমিনুল হক। সেই পথেই ছিলেন তারা। কিন্তু হুট করেই সবচেয়ে হতাশার মুহূর্ত আসে একেবারে শেষ বিকালে। দিনের খেলা শেষ হতে যখন আর মাত্র দুই বল বাকি, তখনই খুররাম শাহজাদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মোমিনুল। খুররাম শাহজাদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারতেন তিনি। কিন্তু বিনা কারণে শট খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেন। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ল মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। ভাঙল ৫০ বল স্থায়ী ১৯ রানের জুটি। মোমিনুলের আউটের পর আম্পায়াররা দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ৬০ বলে ৩০ রান নিয়ে মোমিনুল আউট হন। শান্ত ৩২ বলে ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের আশা ছিল বড় সংগ্রহের। কিন্তু সকালে সেই সুযোগই দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। আগের দিনের ২১ রান থেকে ব্যাটিং শুরু করা পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান আসে বাবর আজমের ব্যাট থেকে। তিনি ৮৪ বলে খেলেন ৬৮ রান। তাকে ফেরান নাহিদ রানা। টেস্টে ৫ ইনিংসের মধ্যে তিন ইনিংসে তাকে আউট করলেন নাহিদ। সাজিদ ২৮ বলে খেলেন ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস। পাকিস্তান প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান করেছে। দ্বিতীয় সেশনে রান কিছুটা বেশি নিলেও উইকেট হারিয়েছে চারটি। সবমিলিয়ে ৫৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান ২০৬। তৃতীয় সেশনে চা বিরতির পর ২.৪ ওভার খেলা হয়। সেখানে ২ উইকেট হারালেও পাকিস্তান তুলে নেয় ২৬ রান।
তাইজুলের বলে পর পর তিন ছক্কা না হলে লিডটা আরও বড় থাকতো বাংলাদেশের। গতকাল সকাল থেকেই দারুণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের বোলররা। তাসকিন–নাহিদ–শরিফুলের সঙ্গে দুই স্পিনার তাইজুল ও মিরাজ ভালো লাইনে বোলিং করেছেন। সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম। দুটি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান ও তাসকিন আহমেদ।













