টিসিবির কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে, বাজার তদারকিও জরুরি

| সোমবার , ১৮ মে, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে এখন মধ্যবিত্ত সমাজের অনেক ভরসা টিসিবির ট্রাকসেল। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে নাকাল সাধারণ মানুষ। বাজারে ডিম, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে কোনো পণ্যে স্বস্তি না মেলায় কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় অনেকের ভরসা এখন সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল। তবে ক্রেতার চাপ বাড়ায় এবং চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেলের সামনে প্রতিদিনই বাড়ছে নিরুপায় মানুষের ভিড়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে তিন বছরের বেশি সময় ধরে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ইরানযুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, তার কারণে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। এর ফলে প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে। টিসিবির ট্রাকের লাইনে মানুষের দীর্ঘ লাইন ও পণ্য পেতে হুড়োহুড়ির ঘটনা বলে দেয়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপনের সংকট কতটা তীব্র হয়েছে। আমরা মনে করি, টিসিবির ট্রাকের সংখ্যা যেমন বাড়ানো প্রয়োজন, তেমনিভাবে বাড়াতে হবে পণ্যের সংখ্যাও। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টিসিবির পণ্য বিক্রিতে শৃঙ্খলা ও মানবিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ট্রাক কোথায় ও কখন যাবে, তা আগেভাগে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। প্রবীণ, নারী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। ট্রাকের অবস্থান পরিবর্তন হলে যেন বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন জরুরি। পাশাপাশি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কেনা ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। জনগণের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

অস্থির বাজারের সময়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের ভরসার জায়গা হলো টিসিবির পণ্য। বাজারে কখনও কখনও সুনির্দিষ্ট কোনো পণ্যের, আবার কখনও একযোগে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। যদিও এ ঘাটতির পেছনে কাজ করে সিন্ডিকেট। এমন কাজে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে কারসাজির ভূমিকাই বেশি থাকে। এতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামও বেড়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। বিশ্লেষকরা বলেন, ‘দেশে সব নিত্যপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন হয় না। কিছু পণ্যের উৎপাদন হলেও তা দিয়ে চাহিদা মেটে না। ফলে উৎপাদন হয় না কিংবা কম উৎপাদন হয়এমন সব পণ্য আমদানির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ভোক্তার চাহিদা পূরণ করা হয়। বাজার বিশ্লেষকরা এমন পরিস্থিতিতে টিসিবির প্রয়োজনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন। উল্লেখ্য, বাজারে যখন তখন দাম চড়ে এমন নিত্যপণ্যের মধ্যে তেল, পেঁয়াজ, ডাল ও চিনিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে আসছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশটিসিবি। সংসারে অপরিহার্য এসব পণ্য বাজারের চেয়ে কম মূল্যে কিনতে অনেকেরই ভরসা টিসিবির ট্রাকসেল।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টিসিবির ট্রাক সেল। তবে এটা দিয়ে পুরো দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। কারণ টিসিবির যে সক্ষমতা আছে তা দিয়ে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ক্ষুদ্র একটা অংশ পূরণ করা সম্ভব। যারা টিসিবির পণ্য কিনতে পারবেন তারাই সুবিধা পাবেন। তবে টিসিবির কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। আসলে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন চোখে অন্ধকার দেখছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে আয় বাড়ছে না। ফলে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া তাদের উপায় নেই। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত পণ্য না থাকায় তারা হতাশ হচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজার তদারকি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরো সমপ্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে