জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দলটি এখন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল থেকে চাঁদাবাজির দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপির পা থেকে মাথা পর্যন্ত আপাদমস্তক সবাই চাঁদাবাজ এবং একজন চাঁদাবাজেরও বিচার করা হয়নি। গতকাল শনিবার বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।
শফিকুর রহমান বলেন, যে পথ ধরে স্বৈরাচার হেঁটেছে, বিএনপিও এখন সেই একই পথে হাঁটছে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদের বয়স আড়াই মাসও হয়নি, অথচ সরকার আপাদমস্তক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা সরকারকে সময় ও সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা উল্টো পথে হাঁটছে। নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গেও তারা গাদ্দারি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি একসময় দেশে অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে অনির্বাচিত প্রতিনিধি বসিয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার মানে না, মানবাধিকার কমিশন মানে না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও দিতে চায় না। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই বিচার বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। গুম কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা গুম কমিশন মানেন না। জনগণও আপনাদের মেনে নেবে না। এ দেশের জনগণ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে। শফিকুর রহমান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালানোর সুযোগ ৫৫ বছরেও শেষ হয়নি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে করতে হবে। পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগে নদীর দিকে নজর দেন, এরপর খাল খনন কর্মসূচি পালন করেন। কারণ নদীতে পানি না থাকলে খালে পানি থাকবে কিভাবে?
সংসদের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বেকারত্ব, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক–বীমা ও ব্যবসা–বাণিজ্য নিয়ে। অথচ সেখানে ৫৫ বছর আগের ইতিহাস নিয়ে বাহাদুরি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিহাস চর্চা হবে শিক্ষা নেওয়ার জন্য, জাতিকে বিভক্ত করার জন্য নয়। ইতিহাসের সঙ্গে বেইমানি করলে একটি জাতিকে কত বড় মূল্য দিতে হয়, তা জানার জন্য ইতিহাস পড়তে হবে।











