তবলা মানুষের সৃজনশীলতাকে জাগ্রত করে বলে মন্তব্য করেছেন তালবিন্দু একাডেমির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের বক্তারা। তারা বলেন, একজন শিল্পী যখন তবলা বাজান, তখন তিনি শুধু তাল রক্ষা করেন না, বরং নিজের মনের ভাবও প্রকাশ করেন। তার আঙুলের প্রতিটি আঘাত ও বিরতি যেন এক একটি গল্প বলে। মানুষের হাসি, কান্না, আনন্দ কিংবা বেদনা–সবকিছুই যেন তবলারই বোলের মধ্যে জীবন্ত হয়ে ওঠে। তবলা শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি মানুষের অনুভূতি, সংস্কৃতি ও আবেগ প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। তবলার প্রতিটি ধ্বনি মানুষের মনের গভীরে ছুঁয়ে যায় এবং তাকে সুর ও ছন্দের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। গুরু–শিষ্য পরম্পরায় চর্চিত এই শিল্প মানুষের আত্মিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা ও প্রসারে তালবিন্দু একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে ‘তালবিন্দু একাডেমি’র প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওস্তাদ জাকির হোসেন ও পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে আয়োজিত শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। তালবিন্দু একাডেমির সভাপতি রূপম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন শিল্পপতি ও সংগঠক লায়ন আর কে দাশ রুপু। প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পপতি ও সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন তবলা শিল্পী ও তবলাগুরু চন্দন ধর। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী ও শিল্পী রিষু তালুকদার।
স্বাগত বক্তব্য দেন তালবিন্দু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তবলাশিল্পী অমর্ত্য চক্রবর্তী। সঞ্চালনায় ছিলেন পার্থ প্রতীম মহাজন ও ইতি সর্ববিদ্যা। বক্তব্য দেন অভিজিৎ চৌধুরী ও রঞ্জন কুমার সেন। আলোচনা শেষে শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে তালবিন্দু একাডেমির শিক্ষার্থীরা বৃন্দ তবলা লহড়া পরিবেশন করেন। এছাড়া উচ্চাঙ্গসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিটন দাশ ও মিটন বিশ্বাস। তবলায় সঙ্গত করেন সজীব বিশ্বাস এবং হারমোনিয়ামে সঙ্গত করেন দীপ্ত দত্ত ও নিলয় দত্ত। পাশাপাশি সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ডান্স একাডেমি ও নাট্য শাস্ত্রমের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।













