মোবাইল ফোনের টাওয়ারের বিকিরণে কী কী ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন জমা দিতে বিটিআরসিকে আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। পরিবেশবাদী সংগঠন এইচআরপিবির আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁয়ার বেঞ্চে গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়।
এইচআরপিবির আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে মানুষ, পশু, পাখি, গাছপালা ইত্যাদির ক্ষতি হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। এ সম্পর্কিত খবর সংযোজন করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট আবেদন করেছে। এই রিট আবেদনে জারি করা রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল হাই কোর্ট রুল ‘আবসুলেট’ করে রায় দেয়। রায়ে বিটিআরসিকে ফিল্ড সার্ভে করে বর্তমান মাত্রা কতটুকু কমানো যায়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।
আদালত রায়ে জনসমাগম স্থলে অর্থাৎ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত পাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যেন এ ধরনের টাওয়ার বসানো না হয়, গাইডলাইনে তা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলে। এই রায়ের পরে বিটিআরসি একটি কমিটি করে আগের মাত্রা বহাল রয়েছে তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিল করে বলে জানান এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। মনজিল মোরসেদ বলেন, বিটিআরসির প্রতিবেদন নিয়ে এইচআরপিবি আপত্তি তোলে। সেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বিকিরণের মাত্রা ১০ ভাগের এক ভাগ করার যে ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, সে অনুসারে বাংলাদেশেও কমানোর আবেদন জানানো হয়। এ ব্যাপারে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনার আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত এক আদেশে বিশেষজ্ঞ মতামত শোনার আদেশ দেন।
মনজিল মোরসেদের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান আদালতে এসে বক্তব্য দেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। যেখানে তিনি মোবাইল টাওয়ার থেকে রেডিয়েশনের মাত্রা কমানোর সুপারিশ করেন, একই সঙ্গে এই ধরনের মাত্রা কী পরিমাণ ক্ষতি করছে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশে একটি গবেষণার প্রস্তাব করেন। আজ (বুধবার) এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসানের রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশের মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ থেকে কী ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে, তা নির্ণয়ের জন্য তার প্রস্তাবিত মত অনুসারে বিটিআরসিকে একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে আগামী ৬ মাসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে রায়ের অন্যান্য নির্দেশনা, পরামর্শ বিশেষ করে স্কুল–কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত প্রভৃতি স্থানে টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার আদালতের মতামত অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেও আদালতে কম্প্লাইয়ান্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।













