চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা গত ১১ মে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হয়। এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. শফিউল আজম খানের সঞ্চালনায় এসোসিয়েশনের প্রয়াত সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. উবায়দুল হক আলমগীর।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম সাইফুল আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক সংগঠনের ন্যায় এ এসোসিয়েশনেও প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রশাসনকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, এসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগ হলে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম, অন–চ্যাসিস ডেলিভারির আন্ডারটেকিং স্বাক্ষরসহ সিএন্ডএফ এজেন্টদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, ২৮০০ সিএন্ডএফ এজেন্টের জীবিকা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি এসোসিয়েশনের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং অতীতের ভুল–ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, বর্তমান পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সদস্যদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ এবং নির্বিঘ্নে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সদস্যদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে দুইটি শক্তিশালী ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। শিপিং এজেন্টদের অযাচিত চার্জ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জবাবদিহিতামূলক মাসিক প্রশ্নোত্তর পর্ব পুনরায় চালু করা হয়েছে। এসোসিয়েশনের সভাপতিকে আহ্বায়ক করে সার্ভিস প্রোভাইডার কো–অর্ডিনেশন সেল গঠন করা হয়। তিনি সকল বিভাজন ভুলে সিএন্ডএফ ব্যবসা সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, নতুন লাইসেন্স ইস্যুতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে কাস্টমস হাউসসমূহের বাৎসরিক আমদানি–রপ্তানি পরিসংখ্যান বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইসেন্স ইস্যু করা উচিত।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি শামছুর রহমান, ১ম সহ–সভাপতি মো. নুরুল আবছার, ২য় সহ–সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন, ৩য় সহ–সভাপতি আবু সালেহ, উপদেষ্টা মো. সোলায়মান, মো. নুরুল ইসলাম ও মো. নুরুল আবছার, ঢাকা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ–সভাপতি শেখ মো. মোখলেছুর রহমান, নির্বাচন কমিশনার মো. হানিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. সায়েদুজ্জামান খান, সদস্য খন্দকার লতিফুর রহমান আজিম, আবদুল হাই মাসুম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, এম এ আজিজ হাওলাদার, এএসএম ইসমাইল খান, মো. এনামুল কবির বাচ্চু, এস এম খায়রুল আমান, এস এম মহিউদ্দিন, সৈয়দ মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা কমিটির মেয়াদ এক বছর থেকে বৃদ্ধি করে তিন বছর নির্ধারণ, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন, ২০২৬ সালের হিসাব নিরীক্ষার জন্য বর্তমান অডিটরকে পুনঃনিয়োগ এবং যুগ্ম অর্থ সম্পাদক, অফ–ডক বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক নামে নতুন পদ সৃজনসহ গঠনতন্ত্র অধিকতর সংশোধন করে যুগোপযোগী করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।













