সুযোগ পেলে অটিজম আক্রান্তরাও অবদান রাখতে পারে

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হচ্ছে আজ অটিজম শিশুদের স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত করার দাবি

জাহেদুল কবির | বুধবার , ১৩ মে, ২০২৬ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আজ পালন করা হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান। অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালন করে। তবে দেশে আজ দিবসটি পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটিজম শিশুদের একটি বিকাশগত সমস্যা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরা সাধারণত অপরের সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারে না। তারা অতিরিক্ত জেদী হয় এবং নিজেকে বিচ্ছিন্ন ও গুটিয়ে রাখার মানসিকতাসম্পন্ন হয়। অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে গবেষকরা মনে করেন, জেনেটিক, ননজেনেটিক ও পরিবেশগত প্রভাব সমন্বিতভাবে অটিজমের জন্য দায়ী। শিশুর বিকাশে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত পরিচর্যাই এর একমাত্র বিকল্প। জানা গেছে, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শিশু অটিজম নামের এই নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। অটিজম কোনো স্থায়ী অবস্থা নয়। সময়ের সাথে সাথে এর ইতিবাচক বা নেতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ শিশুর মধ্যে রোগের কারণ বাড়তে পারে। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে এপিলেপ্সি দেখা দিতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে এমন শিশুরা বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার এদের মধ্যে অনেকেই নিজের কাজ করতে পারে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে পারে। অনেক সময় বলা হয়, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা একা থাকতে পছন্দ করে কিংবা তারা সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে চায় না। আসলে বিষয়টি তা নয়। তারা প্রায়ই সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে চায়, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগে প্রায়োগিক দক্ষতার অভাবে তারা তা করতে পারে না। কখনো কখনো তারা বন্ধুত্বও তৈরি করতে পারে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোনো কোনো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কথা বলতে পারে এবং অন্যের সঙ্গে মিশতেও পারে। তাদের যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তারা মেধাবী, সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং চিন্তার দিক থেকে তারা সক্ষম থাকতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অনেকেই জীবনে সফল হতে এবং সমাজে অবদানও রাখতে পারে।

নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী আজাদীকে বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি একটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। শিশুর জন্মের প্রথম দুইতিন বছরের মধ্যেই এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। অটিজম এমন একটি বিকাশজনিত সমস্যা, যা হলে আক্রান্ত ব্যক্তির অন্য মানুষ বা বিষয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকে না। অটিজম আক্রান্তরা কিছু পারে না, কথাটি ঠিক না। আসলে তারা ভিন্নভাবে পারে। যদি পর্যাপ্ত সুযোগ পায় তারা সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। আমাদের দেশে অটিজম আক্রান্তদের নরমাল স্কুলগুলোতে গ্রহণ করে। আইনে আছে, তারপরও সাধারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের অবজ্ঞা করে।

তিনি বলেন, অটিজম আক্রান্তরা কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ ঠিকভাবে করতে পারে না। তাদের একজন সহায়ক প্রয়োজন হয়। তারা একই কাজ বারবার করে। এদেরকে সমাজের মূল স্রোতের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ট্রেনিং দিতে হবে। তাদের অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপি লাগে, স্পেশাল এডুকেটর লাগে। নরমাল স্কুলগুলো অটিজম আক্রান্তদের নিতে চায় না। তাই তাদের জন্য আমাদের বিশেষ স্কুল খুলতে হয়েছে। সরকারের কাছে দাবি জানাব, বিশেষ স্কুলগুলো যেন এমপিওভুক্ত করা হয়। আমাদের শিক্ষকদের বেতন দিতে কষ্ট হয়। নিষ্পাপ অটিজম স্কুলে শতাধিক শিশু পড়াশোনা করছে। এমপিওভুক্ত হলে বেতন কম নিতে পারব। এতে অভিভাবকদের খরচের বোঝাও কমবে। প্রত্যেকটা অটিজম বাচ্চা ইউনিক। তাদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করা যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসীমান্ত হত্যা বন্ধে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো উদ্যোগ নেই : পাটওয়ারী
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়ার হাইদগাঁওয়ে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ শুরু