আরো এক লাখ টন ক্রুড অয়েল চট্টগ্রামের পথে

আনা হচ্ছে আমিরাত থেকে, বন্দরে পৌঁছাবে ২৩ মে এসব ক্রুড দিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তিন মাস উৎপাদন সম্ভব হরমুজে আটকা জাহাজটিকেও আনার চেষ্টা চলছে

হাসান আকবর | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি মাদার অয়েল ট্যাংকার গতরাতে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করেছে। জাহাজটি আগামী ২৩ মে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মধ্যে আটকা পড়া এমটি নর্ডিক্স পল্যাক্স জাহাজটিকেও বের করে আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছানো এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পুরোদমে উৎপাদন চালানো হচ্ছে। সবগুলো ক্রুড দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারি আগামী অন্ততঃ তিনমাস নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে।

সূত্র জানিয়েছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য এক লাখ টন ক্রুড অয়েল গতকাল দুপুরের মধ্যে বোঝাই শেষ করেছে এমটি ফসিল নামের মাদার ট্যাংকার। গতরাতে জাহাজটি চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে যাত্রা করা জাহাজটি ওমান উপসাগর, আবর সাগর এবং ভারত মহাসাগর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাবে। হরমুজ প্রণালিতে বিরাজমান উত্তেজনার সাথে জাহাজটির কোন সম্পর্ক নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ক্রুড অয়েল পরিবহনের জাহাজ ম্যানেজসহ সবকিছু করে থাকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। ক্রুড অয়েল পরিবহনের এমটি ফসিল নামের জাহাজটিও ভাড়া করেছে বিএসসি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক গতরাতে দৈনিক আজাদীকে জানান, আজ দুপুরে জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড বোঝাই হয়ে গেছে। রাতেই জাহাজটি চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করেছে। এটি আগামী ২৩ মে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।

এই জাহাজটির রুটে হরমুজ প্রণালির কোন সম্পর্ক নেই বলে উল্লেখ করে কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, এটি নির্দিষ্ট রুটেই চট্টগ্রামে পৌঁছে যাবে। তিনি হরমুজ প্রণালির বিরাজমান পরিস্থিতিতে আটকা পড়া বিপিসির এক লাখ টন ক্রুডবাহী এমটি নরডিঙ পল্যাঙ জাহাজটিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন।

ইতোমধ্যে ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড চট্টগ্রামে পৌঁছে গেছে বলে উল্লেখ করে কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, মে মাসে দেশে দুই লাখ টন ক্রুড পৌঁছাচ্ছে। অন্যদিকে আরও এক লাখ টন ক্রুড আনার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু মিলে আগামী অন্তত তিন মাস ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুডের কোনো সংকট হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি পুরোদমে উৎপাদন চালাচ্ছে। এখন ক্রুডের কোন সংকট নেই। নতুন করে আরো এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে জাহাজ যাত্রা করেছে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে (ইআরএল) বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি ক্রুড পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, এলপিজিসহ ১৩ ধরণের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটায়। বাকি তেল পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পুরোদমে উৎপাদন চলছে। ক্রুড অয়েলের কোন সংকট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধকেউ মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকলে সহায়তা দেওয়া হবে