চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অটোরিকশা চালক আইয়ুব আলীকে (৫৫) হত্যা করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ মে) ভোরে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া ও পটিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আনোয়ারা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. জামাল ওরফে গালকাটা জামাল (৫২) এবং মো. আব্দুল জব্বার (৩১)।
পুলিশ জানায়, নিহত আইয়ুব আলী ভাড়াভিত্তিক একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। গত ২০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। পরে সকাল ১১টার দিকে আনোয়ারা থানার শোলকাটা রাস্তার মোড় এলাকায় পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ এপ্রিল সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের অটোরিকশার মালিক আলী আহাম্মদ বাদী হয়ে গত ৬ মে আনোয়ারা থানায় হত্যা, চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ ও চুরির অভিযোগে মামলা করেন।
পুলিশ বলছে, মামলাটি ছিল ক্লুলেস। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার জামাল আন্তঃজেলা চেতনানাশক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহত অটোরিকশা চালক আইয়ুব আলীর ছোট ছেলে মো. শাহেদ বলেন, ‘আমার বাবাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আমরা প্রথমে বুঝতে পারেনি। চিকিৎসকরা বলেছিলেন তাকে কিছু খাওয়াইয়ে অচেতন করা হয়ে়ছে সেভাবে আমরা চিকিৎসা করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আমার বাবার মৃত্যু হয়। আনোয়ারা থানা পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। আমি তাদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।’
জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।’














