গত বিপিএলের অনিয়ম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন বিসিবির বর্তমান অ্যাড–হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ফাহিম সিনহা। তামিম জানান, এক সময়ের লাভজনক এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ থেকে গত মৌসুমে ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বিসিবির। পরে বোর্ড থেকে জানা যায়, ক্ষতির অঙ্কটি আসলে ১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মিরপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম সিনহা বলেন, বিপিএলের আগের আসরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে গত আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাইয়ে কিছু মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো অনুসরণ করা হয়নি। ‘কিন্তু যেটা হয়েছে, ইন্টেগ্রিটি বিভাগের অ্যালেঙ মার্শাল আমাদেরকে জানিয়েছেন, ইওআইর (এঙপ্রেশনস অব ইন্টারেস্ট) আগে দুজন ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছিল যে ইন্টেগ্রিটি ইস্যু আছে, তাদেরকে যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেওয়া হয়। কিন্তু তখনকার গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন নাকি খুব ‘ইনসিস্ট’ করে একজনকে বাধ্য করেছে দল দিতে। আরেকজনের ক্ষেত্রে একটু ‘লিনিয়েন্সি’ দেখিয়ে ওই ব্যক্তি পেছনে থেকে আরেকজনকে সামনে দিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর যে ব্যাপার, আমরা এসে দেখলাম যে, দুটি দলের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত বিসিবির চুক্তিই হয়নি, অথচ একটা আসর খেলে ফেলেছে তারা।’ ফাহিম সিনহা জানান, চুক্তি না হওয়া সেই দুই দল সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এঙপ্রেস। দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই ছিল নতুন। এছাড়াও আর্থিক সঙ্কটের কারণে বিপিএল শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম রয়্যালস দলের মালিকপক্ষ সরে যাওয়ায় সেই দলের দায়িত্ব নেয় বিসিবি। সেই দলটি পরিচালনা করতে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান ফাহিম সিনহা। পরে তামিম জানান, সব মিলিয়ে এই বিপিএল থেকে বিসিবির ক্ষতি ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা। বিসিবি সভাপতি জানান, এসব ব্যাপারে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে তারা সবসরকম তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
‘আমি তো এঙপোজ করেছি এবার। আগের সময় এঙপোজ হয়নি। আমি একদম পুরো তথ্যসহ আপনাকে এঙপোজ করেছি, যদি কেউ এটা চ্যালেঞ্জ করতে চায় দেন দে আর ওয়েলকাম টু ডু।’ বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এখনও আলোচনা হয়নি বলে জানালেন তামিম।
‘আমরা স্রেফ ঘোষণাটি দিলাম আজকে। আমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেব কি না, এটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। হঠাৎ করে আমি যদি বলে দিই যে, আমরা মামলা করব, সেটা ঠিক হবে না।’ তামিম প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদে সভাপতি হতে পারলে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাই প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করবেন। উপযুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি না পেলে প্রয়োজনে টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার পক্ষপাতী তিনি।
ফ্র্যাঞ্চাইজিকে যদি ক্রিকেটাররা বিশ্বাস করতে না পারে, ক্রিকেটাররা সময়ের মধ্যে টাকা পাবে, এসব যদি না হয়, বিপিএল করার মানে নেই। বিপিএল আমাদের দারুণ একটি প্রোডাক্ট। কিন্তু গতবারের মতো করার জন্যই করতে হলে এটার চেয়ে না করাই ভালো। জোড়াতালি দিয়ে দলের মালিকানা দিয়ে, (ব্যাংক গ্যারান্টি) ১০ কোটির জায়গায় ২ কোটিতে দিয়ে দেওয়ার চেয়ে টুর্নামেন্ট না করাই ভালো। আশা করি, ভবিষ্যতে আমি আসি বা যারা আসে, তারা এটা নিয়ে কাজ শুরু করবে। আমাদের এখানে অনেক বড় বড় কর্পোরেট আছে, যাদেরকে আমাদের কনভিন্স করতে হবে দল নিতে। আমিও বিপিএলের অনেক বড় ভক্ত। কিন্তু বছরের পর বছর শুধু বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে না, ক্রিকেট বোর্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের ওপরও বাজে প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনে দেশের বাইরের প্রতিষ্ঠানকে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা দেওয়ার পক্ষপাতী তামিম। আইপিএল দলগুলির কর্ণধাররা যেমন এসএ টোয়েন্টি, দা হান্ড্রেড, সিপিএলসহ নানা লিগে দলের মালিকানা নিয়েছে, সেই উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
‘এখন সিপিএল ভালো টুর্নামেন্ট, পিএসএলও ভালো, আইপিএল তো বিশ্বের সেরা লিগ। এখন তো দেখছি একটা দল অনেক জায়গায় দল কিনছে। তাদের জন্য বাংলাদেশ হবে দারুণ এক বাজার। আর্থিক দিক থেকে অনেক স্বস্তা হবে অন্যান্য লিগের তুলনায়। অন্যান্য লিগে দল চালাতে যত খরচ হয়, এর চেয়ে অনেক কম এখানে। এই জায়গায় যদি আমরা সঠিকভাবে ভাবতে পারি, সবার জন্যই লাভজনক হতে পারে।’














