পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালের জন্য পেশাওয়ার জালমি উড়িয়ে নেয় বাংলাদেশের গতিময় পেসার নাহিদ রানাকে। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে তাক লাগিয়ে দেন নাহিদ। চার ওভারে ২২ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। তার এমন বোলিংয়ে মুগ্ধ পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। প্রথম ইনিংস শেষে টিভি সাক্ষাৎকারে শোয়েব বলেন, ‘অনেক স্পেশাল। তার অনেক পেস আছে। এর সাথে লাইন এবং লেংথ বেশ ভালো। এত ভালো পেসের সাথে এমন দারুণ নিয়ন্ত্রণ থাকলেই আপনি ভালো বোলার হতে পারবেন। এ কারণেই সে এত স্পেশাল।’ রোববার হায়দরাবাদ কিংসমেন ও পেশাওয়ার জালমি পিএসএলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামে। এমন ম্যাচে টস জিতে নাহিদের পেশাওয়ারকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় হায়দরাবাদ কিংসমেন। নাহিদকে ৬ষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আনা হয়। প্রথম ওভারে কিছুটা এলোমেলো ছিলেন বাংলাদেশি এই পেসার। তবে ঘুরে দাঁড়াতে তিনি সময় নেননি। গতি, বাউন্স আর ইয়র্কারের মিশেলে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিলেন বাংলাদেশের তরুণ এই পেসার। হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে তার প্রথম ওভারে আসে ১৩ রান। পরের তিন ওভারে একটি মেডেনসহ ৯ রান দিয়ে তুলে নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হুনাইন শাহর উইকেট। ৫.৫০ ইকোনমি রেটের দারুণ এই পারফরম্যান্সের কারণে তিনি জিতে নেন ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার। আর্থিক পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন তিন লাখ পাকিস্তানি রুপি। পিএসএল ফাইনালের ইতিহাসে মেডেন ওভার করা মাত্র তৃতীয় পেসার হওয়ার গৌরব এখন তার দখলে। আসরে মাত্র ৫ ম্যাচ খেলেই ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট শিকার করেছেন এই টাইগার পেসার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে এবারের পিএসএলে খেলেন নাহিদ। অভিষেক ম্যাচে ভালো না করলেও পরের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নেন ৭ উইকেট। এরপর ফিরে আসেন দেশে, খেলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজ শেষে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। পরে তার দল পেশাওয়ার জালমির অনুরোধে ফাইনালের জন্য এনওসি দেয় বিসিবি। ফাইনালের টিকিট পেয়ে খেলতে নেমে বাজিমাত করেন বাংলাদেশের এই গতিময় পেসার। ফাইনালে তার দল পেশাওয়ার হারিয়ে দেয় হায়দরাবাদকে।













