দুর্নীতির সাথে কম্প্রমাইজ করতে চাই না : ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ

| সোমবার , ৪ মে, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

দুর্নীতির সাথে আপস করতে চান না বলে জেলা প্রশাসকদের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল রোববার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সেটি হচ্ছে আমরা ‘কমপ্রমাইজ’ করতে চাই না দুর্নীতির সাথে।

সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনারদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ, এটার প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। খবর বিডিনিউজের।

মাঠ প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিতলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা ব্যবহার না করি বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যাতে করে জনগণ সময়মত সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত যে সুফল লাভ করতে পারে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এই সম্মেলনে চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ বদলি কিংবা পদোন্নতির মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জেলা প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে ‘সরকারের দূত’ বলে আখ্যায়িত করে সরকারপ্রধান বলেন, এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এটি এমন একটি পরিসর যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যে অত্যন্ত জরুরি সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে এবং যাতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত দমন করা যায় সে জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও দৃশ্যমান করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেন। জনগণের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি সহজতর করা এবং সরকারি সেবাকে হয়রানি মুক্ত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমি মনে করি আপনাদের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অংশ। জনগণের যেকোনো ন্যায্য অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে নিয়ে প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন তারেক রহমান। সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি অবস্থান থেকেও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও ডিসিদের কঠোর ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশনাও এসেছে তার কাছ থেকে।

স্থানীয় নেতৃত্ব সাথে সমন্বয় ও উদ্যোগী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এর মাধ্যমে জনপ্রশাসনকে গণমুখী করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে না মনে করেন তিনি।

জাতীয়ভাবে যেরকম একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়ে সমাজে কোনো ব্যক্তির অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয় তেমনি জেলা পর্যায়ে সামাজিক ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসকদের উদ্যোগী হতে বলেছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে যারা ভালো করছেন, তাদের মনোনীত করে কেন্দ্রে পাঠালে তাদের পুরস্কার বা সম্মাননা দেওয়া ব্যবস্থা করবে সরকার। এসবের মাধ্যমে সমাজে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনারা, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায়, প্রায় পুরোই নির্ভর করে। তিনি বলেন, বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে জনগণের জন্য সরকারের গৃহীত সেই কর্মসূচিগুলিকে সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করবেনএটি কিন্তু জনপ্রশাসনের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। এবারের সম্মেলনে মোট অধিবেশন থাকছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব সম্মেলনে উত্থাপিত হবে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাপলা চত্বরে ‘৩২ প্রাণহানির’ তথ্য পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা
পরবর্তী নিবন্ধসিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্পে অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু