চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত বছরের ৩১ আগস্টে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলেও এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাফ জবাব– মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধানের পদত্যাগসহ দুই দফা দাবি উত্থাপন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল ফোরকানের কাছে এসব দাবি পেশ করেন চাকসু নেতারা।
জানা গেছে, গত মাসের ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহিম। তবে সম্প্রতি আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
চাকসু নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত দুই দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– আব্দুর রহিমকে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব থেকে আগামীকালের মধ্যে প্রত্যাহার এবং গত ৩০ ও ৩১ আগস্টের মামলাসহ সংশ্লিষ্ট সকল মামলার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান।
এ বিষয়ে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেন, গত বছরের ৩০ এবং ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান বাদী হয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশ হিসেবে কাউকে না জানিয়ে তিনি এ আবেদন করতে পারেন না। ওনার এই ধৃষ্টতামূলক কাজের জন্য শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আব্দুর রহিম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাকে বাদী করে মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে দোষীদের বাইরেও সাধারণ মানুষ, কর্মচারীদের নাম আছে। তাছাড়া এটা এখন রাজনৈতিক মামলা হয়ে গেছে। তাই ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।
এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল ফোরকান সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান। এই দাবি জানানোর পরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।














