বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে দুটি মেডিক্যাল টিম খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিয়ে আক্রান্ত পাড়াগুলোতে পৌছেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে দশ জন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন রুমনাম ম্রো (৬৩), তংক্লাং ম্রো (৬৩), যেনক্রাত ম্রো (৪৮), সংকু ম্রো (৩০), প্রেংপিয়ো ম্রো (৩), যেনপিয়ো ম্রো (৭), লেংরুং ম্রো (১৪), যেনলত (১০), কাইরুক (১২) এবং থাওপয় ম্রো (২৬)। এদের মধ্যে রুমনাম ও লেংরুং ম্রো–এর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কঙবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের পোয়ামুহুরী, পাহাড়ভাঙ্গা পাড়া, সদর ইউনিয়নের চিউনি পাড়া, নয়াপাড়া ইউনিয়নের মেনথন পাড়াসহ আশপাশের পাড়াগুলোতে ডায়রিয়া প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত পাড়াগুলোর মধ্যে ম্রো পাড়ায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে বেশি। মূলত দুর্গম অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং বৃষ্টির পর পাহাড়ের ঝিরি–ঝর্ণা থেকে আসা দূষিত পানি পান ও খাবারের রান্নায় ব্যবহার করায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটছে।
কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, একটি পাড়ার সাথে অন্য পাড়ার ঝিরিগুলোর সংযোগ থাকায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বৃষ্টিতে ময়লা আবর্জনা গড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের ঝিরি ঝর্নার পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রচন্ড গরমের কারণে দ্রুত ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া। গত সোমবার পাহাড়ভাঙ্গা এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান বলেন, আক্রান্তদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের পাশাপাশি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া এলাকায় আগে ছড়িয়ে পড়া হামের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল টিম কাজ করছে ঘটনাস্থলে। জরুরি ভিত্তিতেতে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনসহ প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।














