কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত টেক্সি থেকে ফেলে দিয়েছিল ছিনতাইকারীরা : র‌্যাব

| মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত বলে তথ্য দিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, ঘটনার রাতে ছিনতাইকারী চক্রের চারজন সিএনজিচালিত টেক্সিসহ অপেক্ষায় ছিল। বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামলে চালক ও যাত্রী বেশে থাকা তিনজন তাকে ডেকে টেক্সিতে অটোরিকশায় তোলে। এরপর অস্ত্রের মুখে মোবাইলমানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে ওই কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।

মহাসড়কের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলছে, তারা সবাই ‘পেশাদার ছিনতাইকারী’। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। গত রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব১১ এর অধিনায়ক বলেন, সুজনের কাছ থেকে বুলেট বৈরাগীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চুরিছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরো অনেকেই জড়িত আছে। পরবর্তী তদন্তে সেসব বের হয়ে আসবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তাররা দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি বা অটোতে তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটন করে আসছিল। ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামলে তারা তার গন্তব্যস্থল জানতে চায়। তখন তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাদের পাশে বসতে বলে। সিএনজিটি জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এ সময় ভিক্টিমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে জনি চাকু বের করে ভিক্টিমকে ভয় দেখায়, মারধর করে এবং ভিক্টিমের সাথে থাকা নগদ, টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অটোরিকশাটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে তারা ভিক্টিমকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে বুলেট বৈরাগী মারা যান বলে জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক। পুলিশও জানিয়েছে, বুলেট বৈরাগীর মাথার পেছনে গুরুতরভাবে থেঁতলানো ছিল।

নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএসে ননক্যাডার পদে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ সংলগ্ন পানপট্টি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন তিনি। তার বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
পরবর্তী নিবন্ধরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং আজ শুরু