মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্যামেরায় ধারণ করা রঘু রাইয়ের জীবনাবসান

| সোমবার , ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের ঘটনাপঞ্জি ক্যামেরায় ধারণ করে যিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন, ভারতের সেই কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে গতকাল রোববার নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি কেবল ক্যামেরায় ছবি তোলেননি, মানুষ আর সময়ের গল্পকে গ্রন্থিত করেছেন ইতিহাসের পাতায়। ইনডিয়া টুডে রঘু রাইকে বর্ণনা করেছে ভারতের ফটোসাংবাদিকতা জগতের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে। পত্রিকাটি লিখেছে, এই আলোকচিত্রীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের কয়েক দশকের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। খবর বিডিনিউজের।

১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো, রঘু রাই তখন ভারতের স্টেটসমেন্ট পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক। যে বিদেশি আলোকচিত্রীরা সে সময় মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন, তাদের মধ্যে প্রথম দিকেই রঘু রাইয়ের নাম আসে।

ভারতের বিভিন্ন শরণার্থীশিবির ঘুরে বাংলাদেশিদের অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন রঘু রাই। সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলা মানুষ আর রোগশোক অনাহারে ক্লিষ্ট শরণার্থীদের জীবনের সেইসব ছবি পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরা এবং রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যও ক্যামেরায় বন্দি করেছিলেন রঘু রাই। তার তোলা ছবিগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অমূল্য দলিল হয়ে আছে। সেইসব শক্তিশালী আলোকচিত্রের জন্য ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৯২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে আলোকচিত্র জগতের অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক সম্মান ‘অ্যাকাডেমি ডেস বিউঙআর্টস ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড’ পান রঘু রাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদীপক চন্দ্র নাথ
পরবর্তী নিবন্ধরোকেয়া-সামশুল ইসলাম এতিমখানা হেফ্‌জখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন