প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে খেলতে গেলেন। এরপর প্রথম ড্র, প্রথম জয়– এমন অনেক কীর্তি গড়ার পর বাংলাদেশের হকি কন্যারা এবার গড়লেন নতুন ইতিহাস। বাছাইয়ে বাজিমাত করে এশিয়ান গেমসের মেয়েদের হকি ইভেন্টে খেলার টিকেট পেয়েছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গত শুক্রবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই লক্ষ্য পূরণ হতো বাংলাদেশের। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে, ২–১ গোলে জিতেই প্রাপ্তির পূর্ণতায় ভেসেছে দল। চাইনিজ তাইপের সঙ্গে ৫–৫ ড্রয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩–২ গোলে হারায়। আন্তর্জাতিক আঙিনায় এটি ছিল দলের প্রথম জয়। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমি–ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ পাবে সরাসরি আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ। এ সমীকরণ বাংলাদেশ মিলিয়ে নিল অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে উঠে। শুরুতে শঙ্কার মেঘ অবশ্য উঁকি দিয়েছিল বাংলাদেশের আকাশে। কিক অফের পর প্রথম আক্রমণ থেকেই গোল তুলে নিয়ে কণা–রিয়াদের চমকে দেয় দুই ম্যাচ হেরে টেবিলের তলানিতে থাকা হংকং। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো আড়াআড়ি ক্রসে সার্কেলের ভেতর থেকে নিখুঁত হিটে লক্ষ্যভেদ করেন ল কা মুন মেলিসা।
ম্যাচের বয়স তখন ১৫ সেকেন্ড। ওই ধাক্কা সামলে, হংকংয়ের রক্ষণে চাপ দিয়ে দশম মিনিটে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ। সতীর্থের পাস সার্কেলের ভেতরে প্রথম প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথার হিটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এমা নাদিরা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে লড়াই হয়েছে সমানে সমান। গোলের দেখা পায়নি কেউই। তৃতীয় কোয়ার্টারের মাঝামাঝি কণা আক্তারের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে বাংলাদেশ। শেষের বাঁশি বাজার দুই মিনিট আগে গোলমুখে সতীর্থের ক্রস পেয়েও যান কণা, কিন্তু সরাসরি গোলকিপারের গায়ে মারেন তিনি। এরপর শেষের বাঁশি বাজতেই এশিয়ান গেমসে খেলার নিশ্চয়তার উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।














