চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন, দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে, দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা, সামপ্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তঃধর্মীয় সমপ্রতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ। তিনি গত ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই–বিপ্লব স্মৃতি হলে মাইজভান্ডারী একাডেমি আয়োজিত ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহের দিক নির্দেশনা’ শিরোনামে আন্তঃধর্মীয় সমপ্রীতি সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) জন্মদ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম পবিত্র উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সমপ্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।
চবি ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ রবিশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ, চবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায়। মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি (ক.) ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ.ওয়াই.এমডি জাফর। ট্রাস্টি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারীর বাণী পাঠ করেন সাইদুল ইসলাম সাইদু। সম্মিলনে অধ্যাপক ড. সকোমল বড়ুয়া বলেন, বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সামপ্রদায়িকতা, বিশ্বশক্তি কিংবা আগ্রাসন মনোবৃত্তি লালন করা। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সকল সমপ্রদায়ের মন থেকে এ চারটি কুধারণা অপসারণ করা। রবিশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ বলেন, আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃংখলার বড়ই দুর্ভিক্ষ। ধর্ম আচরণ পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটি মানুষের লক্ষ ও গন্তব্য কিন্তু এক ও অভিন্ন।
ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনিন নৈতিক গুণাবলির উপর জোর দেয়। এই সাধারণ নৈতিক ভিত্তি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগীতার পথ সুগম করে ধর্মগ্রন্থগুলো প্রায়ই ঈশ্বর বা দিব্যসত্তার সামনে সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা ঘোষণা করে, যা আন্তঃধর্মিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।














