টিউবওয়েল চালু হওয়ার অপেক্ষায় আছে সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের প্রতিটি ঘাস। মাঠে তখন অনুশীলন করছিল বাংলাদেশ দল, স্টেডিয়ামের চার নম্বর গেটের কাছে তখন চলছে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজ। পাশাপাশি চলছে একটি প্লান্ট বানানোর কাজও। এরই অপেক্ষায় আছ কবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম। মাঠে ঘাসের প্রাণ যেন যায় যায় অবস্থা। রঙ প্রায় হারিয়েই গেছে। মাঠের বেশির ভাগ অংশে সবুজ নেই। কোথাও ধূসর, কোথাও বাদামি। আউটফিল্ডের চেয়ে মাঝের উইকেটগুলোই যেন বেশি সবুজ। মাঠের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু বলেন, গত দুই সপ্তাহে পানি পাওয়া গেছে। তাই মাঠের চেহারা একটু ভালো, এর আগে আউটফিল্ড আরও বাজে ছিল। বাংলাদেশের অন্য টেস্ট ভেন্যুগুলোতে নিজস্ব পানির ব্যবস্থা থাকলেও ব্যতিক্রম চট্টগ্রামের স্টেডিয়াম। সমুদ্রের খুব কাছে বলে সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি তুললে এখানে লোনাপানি ওঠে বেশি। সেই পানি মাঠের জন্য ক্ষতিকর। ঘাস বাঁচাতে আর মাঠ সবুজ রাখতে এখানে ব্যবহার করতে হয় মিঠা পানি। চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে পানি কিনে সেই জোগান মেটানো হয়। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় শুকনো মৌসুমে। শহরের মানুষের খাবার পানির জোগান দিতেই হিমশিম খেতে হয় ওয়াসাকে, মাঠের ঘাসের জন্য প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার পানি তারা সরবরাহ করবে কীভাবে।
গত বছর তাই চট্টগ্রাম ওয়াসার কাছে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর অনুমতি চায় বিসিবি। সেই অনুমতিও মিলেছে। সেই টিউবওয়েল বসানোর খরচ নিয়ে বেশ কিছু দিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে কাজ শুরু হয়েছে। দুটি জায়গায় খনন করে মিঠা পানির সন্ধান মিলেছে একটিতে। সেখানেই সাড়ে আটশ ফুট গভীরে বোরিং বসানো হয়ে গেছে। পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টও বসাচ্ছে বিসিবি। তাতে লোনা পানি পরিশুদ্ধ করেও ব্যবহার করা যাবে। তখন এখান থেকে এমনকি খাবার পানির জোগানও মিলবে। সেই কাজ শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়াসার সরবরাহের ওপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এ শুকনো মৌসুমে টানা তিন মাসে খুব বেশি পানি মেলেনি। দিনের পর দিন মাঠ শুষ্ক পড়ে থেকেছে। আউটফিল্ড হয়ে পড়ে হতশ্রী। কিউরেটর জানান, এই সিরিজের জন্য গত ৯ এপ্রিল থেকে কিছুটা পানি তারা পাচ্ছেন। এমনিতে মূল মাঠসহ আউটার মাঠ, পাশের টেনিস কমপ্লেক্স মিলিয়ে পুরো আঙিনায় দৈনিক ৪ লাখ লিটার পানির প্রয়োজন। গত দুই সপ্তাহে ওয়াসা থেকে পানি পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনীয় পরিণামের ধারেকাছেও ছিল না। যেটুকু মিলেছে, তা দিয়েই কাজ চালানো হয়েছে। দূর থেকে আউটফিল্ড যতটা দৃষ্টিকটূ, কাছে গেলে অবশ্য ততটা লাগে না। বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আউটফিল্ডে ঝুঁকি বা বিপদের শঙ্কা তেমন দেখছেন না তিনি। আউটফিল্ডের মাঠের প্রতিটি উইকেটই এখন বেশি সবুজ, তা দূর থেকেই চোখে পড়ে। যে উইকেটে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচটি হবে, সেখানেও বেশ তাজা ঘাস আছে। ম্যাচের সকালে নিশ্চিতভাবেই কিছু ছেঁটে দেওয়া হবে।
এমনিতে এই মাঠের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক। এবারও সেরকমই হবে বলে মনে করছেন বোলিং কোচ শন টেইট। ‘উইকেট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই আমি। তবে পিচ সার্বিকভাবে বেশ ভালোই দেখাচ্ছে এবং আজ কিউরেটরের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে, পিচ ভালো হবে বলেই বেশ আত্মবিশ্বাসী, কারণ সমপ্রতি এখানে খেলা খুব বেশি হয়নি। উইকেট তো বেশ ভালো মনে হচ্ছে। এখানে আমার ১২ মাসের অভিজ্ঞতায়, চট্টগ্রামে দেখা সেরা উইকেটগুলোর একটি মনে হচ্ছে। দেখা যাক কাল কেমন আচরণ করে। বাংলাদেশে একটা ব্যাপার আমি লক্ষ্য করেছি, সত্যি বলতে, এখানকার উইকেট বোঝা সাধারণত কঠিন। বিশেষ করে মিরপুরে। এবারও আমরা যেমনটা দেখলাম, প্রথম ম্যাচটা দ্বিতীয় ম্যাচের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল।’ তিনি এটাকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সৌন্দর্য বলতে চাইলেন।














