মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল এলএনজি সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডের আওতাধীন গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণাংশসহ সমগ্র তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের জরুরি মেরামতের পর এলএনজি সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত এমএলএনজি এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামত শেষে দুপুর ১২টার দিকে ওই টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সকালে টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিতাস গ্যাস এক জরুরি নোটিসে জানায়, একটি এফএসআরইউ বন্ধ থাকায় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডের আওতাধীন গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণাংশসহ সমগ্র তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিকে ফের গ্যাসে রূপান্তর করা হলে তাকে বলা হয় রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস বা আরএলএনজি। সেই গ্যাস বা আরএলএনজি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। আর জাহাজ থেকে খালাস এবং তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের এই কাজটি করে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ, যাকে সাধারণ ভাষায় এলএনজি টার্মিনাল বলা হয়। বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত এই এলএনজি টার্মিনালটি পরিচালনা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি এঙিলারেট এনার্জি। সমুদ্রে ভাসমান এই টার্মিনালে জাহাজ থেকে নামানো এলএনজি সংরক্ষণ করা হয়, পরে তা গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।
মহেশখালী–কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, ইরান–ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেল গ্যাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মোকাবেলা করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে গ্যাস লাইনের দেখা দেওয়া ত্রুটি মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেরে তা পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এ জন্য এলএনজি টার্মিনাল অপারেটর এঙিলারেট এনার্জি ও জিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করব ভবিষ্যতেও যাতে জাতীয় সম্পদ গ্যাসলাইনে এভাবেই রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকে।
প্রসঙ্গত, মহেশখালীতে দেশের প্রথম এলএনজি আমদানি টার্মিনাল ২০১৮ সালে চালু হয়, যার পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট। পরে একই ধরনের আরেকটি টার্মিনালও চালু হয়, যার সক্ষমতাও সমান। এতদিন দুটি এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাইপরাইনে সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় তা অর্ধেকে নেমে আসে। তাতে তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকার অনেক গ্রাহক গ্যাসের কম চাপ পান। তবে দুপুরে এঙিলারেটের টার্মিনালটি আবার চালু হওয়ায় বিকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।














