জাতি–তাত্ত্বিক যাদুঘর আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। এখনো সেই সত্তর–আশির দশকের মতই সেকেলে অবস্থায় রেখে দেয়া হয়েছে। যথাযথ সুনজর না দেয়া অবহেলিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম এটি! অথচ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চাইলে বহুতল ভবন করে আধুনিক ও সুপরিসর অঙ্গনে রূপায়িত করে দর্শনার্থীদের কাছে পূর্ণাঙ্গ যাদুঘর হিসেবে উপস্থাপন করতে পারতো ঐতিহ্যবাহী এই যাদুঘরটিকে। সেই সাথে এখানে একটি পাবলিক লাইব্রেরি ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য এক বা একাধিক মিলনায়তনও গড়ে তোলা যেতে পারে।
স্বাধীনতার পর এতগুলো বছর পার হলো তবু আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাহিত্য–সংস্কৃতি চর্চার যুগোপযোগী ও পর্যাপ্ত মিলনায়তন এবং ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেনি এই শহরে!
আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও ধীরগতির কুফলে শহর চট্টগ্রাম এখনো অনেক পিছিয়ে আছে! বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে এমনই বেহাল অবস্থা যত্রতত্র! এছাড়াও আছে চট্টগ্রামে সরকারি স্কুল–কলেজের অপর্যাপ্ততা!
বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার চাপে শিক্ষা–চিকিৎসা ও বিনোদনের অপ্রতুলতাও চোখে পড়ার মত এই নগরে! হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি স্কুল ও কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গলদঘর্ম দশা দেখা যায়। যেটা সত্যি হতাশাজনক! বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের অভাবে অসংখ্য ছাত্র–ছাত্রী হতাশায় ভোগাসহ নানান দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে! চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও তথৈবচ। বেহাল অবস্থা নগরীর! ধনীরা ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারলেও সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান ও অপ্রতুল চিকিৎসা সেবার কারণে নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ! শিকার হচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যের!
স্বাস্থ্য সেবার মত আরেকটি বিভাগ হলো সংস্কৃতি চর্চা ও বিনোদন। সেখানেও অপ্রতুল সুযোগ সুবিধা বিরাজমান! প্রতিদিন বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ তৈরি হচ্ছে এখানে! নগর জীবনে এতটুকু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য জনসংখ্যা অনুপাতে নেই পর্যাপ্ত সংস্কৃতি চর্চার সরকারি মিলনায়তন! নেই বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ব্যবস্থাপনার যথাযথ উদ্যোগ! দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার কাজ চলমান ছিল মুসলিম ইনস্টিটিউট এবং পাবলিক লাইব্রেরিটির! উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলেও এখনো পর্যন্ত সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার জন্য জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব হয়নি এটিকে! অথচ এই প্রকল্পগুলি নগরবাসীর সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাছাড়া ইট–কাঠ–কংক্রিট আর যানজট ও জনজটের ভিড়ে বায়ুদূষণে নগরবাসি থাকে দিশেহারা ক্লান্ত! এতটুকু মুক্তবায়ু বা সতেজ অক্সিজেনের ঘাটতি যুগপৎ কার্বন ডাই–অক্সাইডের দূষণে নগরবাসি প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিকভাবে হয় বিষণ্ন–অবসাদগ্রস্ত! শরীরচর্চা এবং বিনোদনের জন্য এই নগরে নেই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা বা উদ্যোগ! গ্রামীণ জনপদের মত উন্মুক্ত প্রাঙ্গণবিহীন এই শহুরে মানুষের জীবনে দু‘দণ্ড স্বস্তি যেন তীর্থের কাকের মতো! দক্ষিণ পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর আধুনিক জীবন ব্যবস্থা অনেক বেশি নাগরিক বান্ধব ও সুপরিকল্পিত। আমাদের দেশের নাগরিকদের জন্য কি এসব শুধুই উচ্চাভিলাষ নাকি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যথোপযুক্ত দাবির অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিৎ! শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সরকারি–বেসরকারি মহলের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলেই উপরোক্ত কাজগুলোর বাস্তবিক ও কার্যকর অবয়ব প্রদান করা সম্ভব।
ইতিমধ্যেই যেখানে দেশে বড় বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষে চট্টগ্রাম নগরে যথাযথ সুদৃষ্টি প্রদান করাও সম্ভব। চট্টগ্রাম নগরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও জরুরি! তেমনি সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রগুলির যথাযথ বিকাশ ও সুব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগও জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম নগরবাসি কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার আক্ষেপে জর্জরিত দীর্ঘদিন। সময় এসেছে সুন্দর একটি নগরীর স্বপ্নপূরণে দাবিগুলির সঠিক বাস্তবায়ন।














