শনি গ্রহের অভূতপূর্ব রূপ তুলে ধরল নাসার দুই শক্তিশালী টেলিস্কোপ হাবল ও জেমস ওয়েব। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের যৌথ ছবিতে শনির বলয়ের উজ্জ্বল বরফ থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলের দুর্লভ মেরুজ্যোতি সবই ধরা পড়েছে এক ভিন্ন আঙ্গিকে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থা সিএসএ শনি গ্রহের নতুন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, জেমস ওয়েব ও হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে তোলা এসব ছবিতে গ্যাসীয় এ দানব গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য ফুটে উঠেছে। হাবলের তোলা সাধারণ ছবির সঙ্গে ওয়েবের তোলা ‘ইনফ্রারেড’ বা অবলোহিত ছবির তুলনা করলে শনির বাইরের স্তরের গঠন ও সেখানে মেঘের চলাচলের খুঁটিনাটি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।
২০২৪ সালের আগস্টে ‘আউটার প্ল্যানেট অ্যাটমোস্ফিয়ার লিগ্যাসি’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে হাবল এসব ছবি তুলেছিল। আর তার কয়েক মাস পরেই জেমস ওয়েবও ছবিগুলো তোলে। নাসা বলেছে, উভয় টেলিস্কোপই শনির রঙিন মেঘের স্তর থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলোকে শনাক্ত করে। তবে হাবল যেখানে গ্রহের সূক্ষ্ম রঙের বিভিন্ন পরিবর্তন দেখায়, সেখানে ওয়েবের ইনফ্রারেড বায়ুমণ্ডলের অনেক গভীর থেকে শুরু করে একদম উপরের হালকা স্তর পর্যন্ত মেঘ ও রাসায়নিকের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছে।
ঐতিহাসিকভাবেই শনি গ্রহের ঝড়গুলো পর্যবেক্ষণের জন্য হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। টেলিস্কোপটির নতুন ছবিতে শনির বায়ুমণ্ডলে মেঘের বিভিন্ন স্তরের সারি বা ব্যান্ডগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ইনফ্রারেড সেন্সরগুলো আরো সূক্ষ্ম বিভিন্ন বিষয়কে ফুটিয়ে তুলেছে। যেমন শনির বলয়ে থাকা উজ্জ্বল বরফগুলো এ ছবিতে প্রায় সাদা রঙের দেখায় এবং গ্রহের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে ধূসর–সবুজ আভার দেখা মেলে।
ওয়েবের তোলা ছবিতে এ ভিন্নধর্মী রঙের কারণ হতে পারে বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে থাকা ‘অ্যারোসল’ বা ক্ষুদ্র কণার একটি স্তর, যা বিভিন্ন অক্ষাংশে আলোকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বা হতে পারে গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে চার্জিত কণার বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া ‘অরোরা’ বা মেরুজ্যোতির প্রভাব। উভয় টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া এসব দৃশ্যমান তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরো বাড়বে।











