কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে একটি মৃত ডলফিন। অন্যদিকে কুতুবদিয়ার সৈকতে একটি বিশালাকার মরা তিমি ভেসে এসেছে। কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা ডলফিনটির দৈর্ঘ্য ছয় ফুটেরও বেশি বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অর্ধগলিত অবস্থায় ডলফিনটি বালুচরে আটকা পড়ে।
সৈকতে দায়িত্বরত লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টু জানান, সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান তারা। তখন সেটি অর্ধগলিত অবস্থায় বালুচরে পড়ে ছিল। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সমুদ্রে নানা কারণে ডলফিনের মৃত্যু ঘটতে পারে। অনেক সময় জেলেদের জালে আটকে কিংবা বড় জাহাজের ইঞ্জিনের পাখায় আঘাত পেয়েও এসব প্রাণীর মৃত্যু হয়। ডলফিনটির শরীরের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এটি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছে। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা এবং নৌযান চলাচলে সতর্কতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশকর্মীরা।
কুতুবদিয়ায় বিশালাকৃতির মরা তিমি : কুতুবদিয়ার সমুদ্র সৈকতে একটি বিশালাকার মরা তিমি ভেসে এসেছে। এই তিমির মরদেহটি পাঁচ দিন আগে ভেসে আসে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ওই সময় এটি বালুচরে পুঁতে ফেলা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে যাওয়ায় এটি আবার দৃশ্যমান হয়েছে। এই তিমির মরদেহটির ওজন প্রায় দেড় টন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, গত শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম সৈকতে মৃত তিমিটি ভেসে আসে। পরদিন রোববার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটি পুঁতে ফেলা হয়। এর মধ্যে বালু সরে গিয়ে শনিবার (গতকাল) সকালে আবারো মাটির উপর উঠে গেছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, অতীতে কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা নেই। তিমিটি আঘাতে নাকি বিষক্রিয়ায় মারা গেছে তা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, তিমিটি পচে যাওয়ায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত তিমিটি দ্রুত আবার পুঁতে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। উপকূলীয় বন বিভাগের কয়েকজন কর্মী প্যারাবন রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও মৃত তিমির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অনদিকে বদলি ও প্রশিক্ষণজনি কারণে এই মুহূর্তে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনপার (ভূমি) অনুপস্থিত রয়েছেন। তাই এই তিমির মরদেহ পুঁতে ফেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে আসার খবরটি আমরা অবগত হয়েছি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে তিমিটি বালুচরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।












