ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সংসদে যাওয়ার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন হতে যাচ্ছে। সেই সংসদে আমরা কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরদের বক্তব্য শোনার জন্য যাচ্ছি না। জনগণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। যে সংস্কারের পক্ষে জনগণ মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা জাতীয় সংসদে যাচ্ছি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠে রাজশাহী মহানগর এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। খবর বিডিনিউজের। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না। সেইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’র রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।
মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে অন্তত স্নাতক বা অনার্স পাস হতে হবে। কিন্তু বিএনপি এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। আমরা মনে করি, বিএনপি এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে দেশের অগ্রগতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চায়।
বর্তমান সরকারকে অগণতান্ত্রিক দাবি করে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের মুক্তি পায়নি। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু এখানে নির্বাচনি প্রকৌশল করা হয়েছে, ভোট ডাকাতি হয়েছে। জনগণের প্রকৃত রায় উপেক্ষা করে দিল্লি ও লন্ডনে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক বক্তব্য দেন।











