বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র চান্দগাঁও এলাকায় আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করল ‘সুন্নাহ স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’। গতকাল শনিবার সকালে বহদ্দারহাটের একটি কনভেনশন হল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্কুলটির উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উদ্বোধক ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্নাহ স্কলার্স স্কুলের চীফ এডভাইজর ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন। সুন্নাহ স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নু. ক. ম. আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুন্নাহ স্কলার্স অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিক্ষার জন্য যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজেট প্রণয়ন করা না হয় তাহলে আমরা একটি সমৃদ্ধশালী জাতি প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো না। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে আমাদের যে ফান্ডামেন্টাল রাইটস শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট সবচেয়ে কম।
স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, ওই শিক্ষায় আমাদের দরকার যেখানে নৈতিকতা আছে। কারণ আমি একজন ডাক্তার হয়ে যখন একজন গরিব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মনোবৃত্তি থাকবে না, তখন আমার এ শিক্ষার কোনো দাম থাকবে না। ওটা কোন আলোকিত শিক্ষা নয়। আলোকিত শিক্ষা হচ্ছে সেটা, যখন আমি ডাক্তার হয়ে একজন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিলাম, তাকে কিছু ওষুধ দিলাম, সেটাই হলো আলোকিত শিক্ষা এবং এই শিক্ষাটাই আমাদের দরকার। ঠিক একইভাবে আমি একজন বড় শিক্ষক। অনেক নামকরা স্যার। দিনশেষে একটা গরীব ছেলেকে আমি যদি বিনামূল্যে শিক্ষা দিতে না পারি, তাহলে শিক্ষক হিসেবে আমার কোন দাম থাকবে না।
আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, এই পৃথিবী থাকবে, কিন্তু আমাদের এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু এই পৃথিবীতে আমাদের পদচিহ্ন যদি একটু ঘাড় করে রেখে যেতে পারি সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা। লোকজন বলবে, এই লোকটা খুব ভাল ছিল। আমাদের সেই চেষ্টা করা উচিত। এসময় তিনি বলেন, আমাদের চেয়ে যারা কম সৌভাগ্যবান তাদের মুখে যদি একটু হলেও হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের জীবনকে সার্থকতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। অপরের কল্যাণ এবং ভালো কাজের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পরও মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের প্রতিবেশীরা যদি আমার জানাজায় দাঁড়িয়ে বলে– এই লোকটা ভালো ছিল, আমরা একটা ভালো লোককে হারিয়েছি, তাহলে সেটাই হবে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি মনে করি, এটা শ্রেষ্ঠ পাওয়া। আমি যদি ভালো খেয়ে ঘুমাই আর আমার একজন পড়শী অর্ধপেটে ঘুমাতে যায়, সেজন্য কিন্তু আমি দায়ী হব। আমাদের খবর নিতে হবে, আমার আশেপাশে যারা আছে তারা ভালো আছে কিনা।
আজাদী সম্পাদক নেলসন ম্যান্ডেলার ‘শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যা ব্যবহার করে তুমি পৃথিবীকে বদলে দিতে পারো’ এবং নোবেলজয়ী মালাল ইউসুফজাই–এর ‘একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি কলম এবং একটি বই পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে’ উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সবকিছুতে শিক্ষাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের যদি শিক্ষা না থাকে, আমরা যদি পড়তে না পারি, আমরা যদি জানতে না পারি তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।
প্রফেসর ড. নু. ক. ম. আকবর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন এবং যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনে সুন্নাহ স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে চাইলে ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। কিন্তু এ কথা মনে রাখা উচিত, যে শিক্ষার মধ্যে নৈতিকতা থাকবে না ওই শিক্ষা পরিপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে না। নৈতিকতা ভিত্তিক শিক্ষার একমাত্র উপকরণ হচ্ছে কোরআন ও সুন্নাহর অনুকরণ। ইংরেজি শিক্ষা, কোরআন–সুন্নাহর অনুকরণেই সুন্নাহ স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল–এর যাত্রা।
সুন্নাহ স্কলার্স অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অভিভাবকরা মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাববোধ করে। সে অভাব দূর করার পাশাপাশি যুগোপযোগী, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সুন্নাহ স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল–এর যাত্রা।
অনুষ্ঠানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হন। তারা ক্যাম্পাস, আই টি ল্যাব, সাইন্স ল্যাব, লাইব্রেরী, ইনডোর– আউটডোর গেইম জোন ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।












