সরদার জয়েন উদ্দীন : সমাজমনস্ক কথাশিল্পী

| রবিবার , ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

সরদার জয়েন উদ্দীন (১৯১৮–১৯৮৬)। বাংলা সাহিত্যে কথাশিল্পী হিসেবে তিনি বেশ সুপরিচিত। কর্মজীবনে তিনি নানান পত্র–পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডসহ বেশ কিছু বিদ্বৎ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস। তিনি ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে খলিলপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে আইএ পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। কর্মজীবনে তিনি প্রথমে সেনাবাহিনির হাবিলদার পদে যোগ দেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর কঠোর অনুশাসনের প্রথাবদ্ধ জীবন ভালো লাগে না। সেখান থেকে অব্যাহতি নিয়ে ঢাকায় নতুন কর্মজীবন শুরু হয় পত্রিকা অফিসে। পাকিস্তান অবজারভার, দৈনিক সংবাদ এবং দৈনিক ইত্তেফাকে তিনি বিজ্ঞাপন বিভাগে কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে বাংলা একাডেমির বিক্রয় ও প্রকাশন শাখার সহকারী অফিসার, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের রিসার্চ অফিসার এবং বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনেই তিনি রচনা করেছেন বেশ কিছু উপন্যাস, ছোটগল্প ও শিশু–কিশোর গ্রন্থ। উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘আদিগন্ত’, ‘পান্নামতি’, ‘নীল রং রক্ত’, ‘অনেক সূর্যের আশা’, ‘বেগম শেফালী মীর্জা’, ‘শ্রীমান তালেব আলী ও শ্রীমতী কখ’ এবং ‘বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ’। ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাসের জন্যে জয়েনউদ্দীন ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প: ‘নয়নঢুলি’, ‘বীরকন্যার বিয়ে’, ‘খরগ্রোত’, ‘বেলা ব্যানার্জীর প্রেম’, ‘অষ্টপ্রহর’। আর শিশু সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে: ‘অবাক অভিযান’, ‘উল্টো রাজার দেশ’, ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ইত্যাদি। তাঁর রচনার প্রধান উপজীব্য ব্যক্তি ও সমাজ, জীবন সংগ্রাম, সমকালীন সমাজ সংকট, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ, সর্বোপরী গ্রামের অবহেলিত মানুষের বেদনা আর বঞ্চনার চিত্র। তিনি ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ২২ শে ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএই দিনে
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কালির কলম ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া হোক