পিপির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নারী পুলিশ সদস্যের

রাঙামাটি প্রতিনিধি | বুধবার , ২৭ জুলাই, ২০২২ at ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ

রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম অভির বিরুদ্ধে ‘যৌন নিপীড়ন’ ও ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের’ অভিযোগ তুলেছেন এক নারী পুলিশ সদস্য। কনস্টেবল পদমর্যাদার ওই পুলিশ সদস্য এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ২৩ জুলাই রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ১৪ জুলাই সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সাইফুল ইসলাম অভি ভুক্তভোগীকে এজলাসের এসি/ফ্যান বন্ধ কেন জিজ্ঞেস করেন। প্রতি উত্তরে ফ্যান নষ্ট বলার পর অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, তোমরা কি চেহারা দেখাইতে আসছো? এসময় তিনি ধমক দিয়ে ভুক্তভোগীকে বের হয়ে যেতে বলেন। এমন কাণ্ডে পুলিশ সদস্যসহ উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে যান। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করে, তাদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন সাইফুল। নারী পুলিশ সদস্যরা ডিউটিরতকালে পিপি সাইফুল এজলাসে আসার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে গা ঘেঁষে এজলাসে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ আরও উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলাম অভি বিভিন্ন সময়ে কুরুচিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে অশালীন ইঙ্গিত করেন, এতে করে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন অভিযোগকারী। পিপির এমন যৌন নিপীড়নমূলক আচরণের কারণে কোর্টে নারী পুলিশ সদস্যরা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। যে কারণে সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। লিখিত অভিযোগে অভির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রার্থনা করেন ভুক্তভোগী নারী কনস্টেবল। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পিপি হিসেবে যোগদান করেন সাইফুল ইসলাম অভি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য জানান, এসপি স্যারের অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। স্যাররা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আপাতত আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙমাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম অভি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য। বরঞ্চ ওই নারী পুলিশ সদস্য আমার সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। আজকে (গতকাল) সকাল ১১টা দিকে এসপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি প্রতিপক্ষ গ্রুপ ওই পদ থেকে সরানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে। এ প্রসঙ্গে জানতে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকারা আনে এত মদ
পরবর্তী নিবন্ধরয়েল বাংলা সুইটসকে লাখ টাকা জরিমানা