কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটায় ইউপি নির্বাচনের জের ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা ছুরিকাঘাতে খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রমজান আলী (৩৫) উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাদশা ফকির বাড়ির বাদশা ফকিরের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তার নিজ বাড়ির পাশে রাস্তার উপর তিনি এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনের রেশ ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত রমজান আলীর মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে ছিল। তবে এ ঘটনায় তখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। গত ১৫ ডিসেম্বর বুধবার কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউপি নির্বাচনের পরের দিনই গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রতিহিংসার জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বানেজা বেগম নিশি জানান, নিহত রমজান আলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক। গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি নৌকার পক্ষে গণসংযোগসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালান। যার কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘটনার আধাঘন্টা পর রিকু নামের প্রতিপক্ষের এক সমর্থক তার ফেসবুক পেজে চাকু সম্বলিত ছবি দিয়ে ‘ মাইরের কোনো বিকল্প নাই’ বলে স্ট্যাটাস দেন।
এদিকে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম হক নিহত রমজান আলীকে নৌকার সমর্থক দাবি করে বলেন, তিনি নিয়মিত আমার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন। তবে কে কিভাবে তাকে খুন করেছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এদিকে নিহতের আত্মীয় খোকন জানান, বুধবার কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মেম্বার প্রার্থীর অনুসারীরা রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ জানান, নিহত রমজান আলী চরপাথরঘাটার ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ইসহাকের অনুসারী ছিলেন। অপর এক মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে খুন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে শুনা যাচ্ছে। নিহতের লাশ চমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।












