দীর্ঘ ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো মিশরের। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে (শেষ ৩২) পা রাখল তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের সাথে ১–১ গোলে ড্র করে ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে মিশরীয়রা। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল বাতিল হওয়ায় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়া ইরানকে এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় মোহামেদ সালাহর চমৎকার পাস থেকে গোল করে মিশরকে এগিয়ে নেন মাহমুদ সাবের। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া ইরান দ্রুতই সমতায় ফেরার সুযোগ পায়। তবে প্রথমার্ধে ইরানের তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমির নেওয়া পেনাল্টি শটটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শুাবির। পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে অবশ্য ম্যাচের ১৪ মিনিটেই ইরানকে সমতায় ফেরান রামিন রেজায়িয়ান। এক তীব্র কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করে স্কোরলাইন ১–১ করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে নাটকের পর নাটক মঞ্চস্থ হয়। প্রথমে মেহেদি তারেমির একটি জোরালো হেড মিশরের গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে (৯৩ মিনিটে) শুজা খলিলজাদেহ জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে উল্লাসে মাতে ইরান। এই গোলে জয় এবং সরাসরি নকআউট নিশ্চিত হওয়ার উল্লাস যখন তুঙ্গে, তখনই খলনায়ক বনে যায় ভিএআর। মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইড থাকায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
এই ড্রয়ের ফলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে বেলজিয়ামের পেছনে থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করল মিশর। অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫–১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম। মিশর ও বেলজিয়ামের অগ্রযাত্রার মাধ্যমে বিশ্বকাপের শেষ ৩২–এর ২৮টি দল এখন চূড়ান্ত। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট এবং শূন্য গোল ব্যবধান (৩ গোল করেছে, ৩ গোল খেয়েছে) নিয়ে ইরান বর্তমানে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্বে যাবে। ইরান বর্তমানে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। যেহেতু আরও তিনটি গ্রুপের খেলা বাকি, তাই ইরানের ভাগ্য এখন নিজেদের হাতে নেই। নকআউটে যেতে হলে বাকি গ্রুপগুলোর অন্তত একটির তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের রেকর্ড ইরানের চেয়ে খারাপ হতে হবে।












