চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা জাপানের তৈরি শিমার্জু ব্র্যান্ডের এনজিওগ্রাম মেশিনটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মেশিনটি মেরামতে বাজেট চেয়ে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেন্ট্রাল মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্ট (সিএমসি) করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে এনজিওগ্রাম মেশিনটির নষ্ট হওয়া পিকচার টিউব মেরামতে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে এমন ধারণা দেয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুটি এনজিওগ্রাম মেশিন চালু আছে। এরমধ্যে গত বছরের শেষের দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে অব্যবহৃত এনজিওগ্রাম মেশিন নিয়ে এসে চালু করা হয়। বর্তমানে নষ্ট পড়ে থাকা মেশিনটি চালু করা সম্ভব হলে আরো বেশি সংখ্যক রোগী সেবা পাবে।
জানা গেছে, ক্যাথল্যাব বা কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশনের (এনজিওগ্রাম) মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের মাংসপেশি, ভাল্ব (কপাটিকা), ধমনির পরিস্থিতি জানতে এবং হৃদযন্ত্রের রক্তের চাপ বুঝতে রোগীকে ক্যাথল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়। ত্রুটি ধরা পড়লে প্রয়োজন মতো রক্তনালিতে স্টেন্ট বা রিং পরানো, পেসমেকার বসানো, সংকুচিত ভাল্বকে ফোলানোসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপাচার করা হয়। চমেক হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করতে রোগীদের সর্বাসাকূল্যে ব্যয় হতো ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে সেই একই সেবা নিতে এখন রোগীদের ব্যয় করতে হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া হার্টে একটি রিং স্থাপনের ক্ষেত্রে চমেক হাসপাতালে ব্যয় হয় ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। এখন বেসরকারিভাবে এই সেবা নিতে খরচ হয় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত।
চিকিৎসকরা বলছেন, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় চট্টগ্রামে হৃদরোগের প্রকোপ বেশি। হৃদরোগের চিকিৎসায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ প্রতিবেশি দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর–ব্যাংককসহ বিশ্বের উন্নত দেশে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে গরীব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের একমাত্র ভরসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের কয়েক কোটি মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র হৃদরোগ বিভাগে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকে। তাই নতুন এনজিওগ্রাম মেশিন যুক্ত হলে কাজের গতি বাড়বে।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতাল হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুর উদ্দিন তারেক দৈনিক আজাদীকে বলেন, চমেক হাসপাতাল হৃদরোগ বিভাগের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি এনজিওগ্রাম দিয়ে কাজ চালাতে হয়েছে। তবে গত বছরের শেষের দিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল থেকে পড়ে থাকা এনজিওগ্রাম মেশিন স্থাপন কাজের গতি বাড়ে। এখন আগে থেকে নষ্ট এনজিওগ্রাম মেশিনটি চালু করা সম্ভব হলে সক্ষমতা বাড়বে। রোগীরাও সেবা পাবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, হৃদরোগ বিভাগের নষ্ট পড়ে থাকা এনজিওগ্রাম মেশিনটি মেরামতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি।












