৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

গান গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:১২ পূর্বাহ্ণ

নগরীর দুই নম্বর গেইটে ছিনতাইকারী সন্দেহে এক যুবককে বেঁধে গান গেয়ে গেয়ে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

এতে বলা হয়, মৃত্যু নিশ্চিতের পর ভিকটিম যুবক শাহাদাত হোসেনের লাশ একটি অটোরিকশা করে আধা কিলোমিটার দূরের নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বদনাশাহ মাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয় এবং মাজারের পাশের নালার পাশে লাশটি ফেলে রাখা হয়।

সম্প্রতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিটটি দাখিল করেন। যে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে তারা হলেন ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী (৪৩), আনিসুর রহমান, মেহেদী হাসান ও মো. মাজেদ। চার্জশিটে বলা হয়, ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের সম্পৃক্ততার সত্যতাও পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে শিশু আদালতে দোষীপত্র দাখিল করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতন হয়। দেশে তখন কোন শৃঙ্খলা ছিল না, ছিল শুধুই অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ১৪ আগস্ট নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বদনা শাহ মাজারের পাশের নালার কাছ থেকে ভিকটিম শাহাদাত হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে বলা হয়, ১৩ আগস্ট দুপুরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। সন্ধ্যায় স্ত্রীর সাথে তার শেষ কথা হয়। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে লাশ উদ্ধারের কিছুদিন পর ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান গাইছেন, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন। তাদের মাঝখানে এক যুবকের দুই হাত বাঁধা, আর তাকে ঘিরে চলছিল বেধড়ক মারধর। ছড়িয়ে পড়া এ ভিডিওর প্রেক্ষিতে তখন পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, আনিসুর রহমান ও ১৬ বছরের এক কিশোর। পরে ওই কিশোর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫২০ জন মিলে ওই যুবককে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনিও মারধরে অংশ নেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী চার্জশিট দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার সাথে সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামের আরও দুজনের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা গেলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় আসামি করা যায়নি। পরবর্তীতে ঠিকানা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

প্রসঙ্গত, ভিকটিম শাহাদাত হোসেন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি অনুযায়ীতিনি নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ফলমণ্ডি এলাকার একটি দোকানে চাকরি করতেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইরানের সব বন্দরে মার্কিন অবরোধ
পরবর্তী নিবন্ধশাহ আমানতে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল