১৩১ কিমি মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক হচ্ছে

লাকসাম-চট্টগ্রাম । ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে এডিবির অর্থায়ন ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা

শুকলাল দাশ | বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

লাকসামচট্টগ্রাম ১৩১ কিলোমিটার মিটারগেজ ডাবল ট্র্যাককে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তর করার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। মূলত চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে পণ্য ও কনটেইনার চলাচল সহজতর করার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রেলওয়ের পরিকল্পনা দপ্তর থেকে জানা গেছে, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম রেল সংযোগকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করতে ১৬ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয়ের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা এবং সরকার দেবে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০৩২ পর্যন্ত।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন (ইলেকট্রিক ট্রেন) প্রকল্প এবং লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম ১৩১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে গতকাল জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক পরিবহন প্রযুক্তি মেলা ২০২৬’ (ইনোট্রান্স ২০২৬)-এ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের এক প্রকৌশলী ও পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘লাকসামচট্টগ্রাম মিটারগেজ ডাবল ট্র্যাককে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তর’ শীর্ষক এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে পণ্য ও কনটেইনার চলাচল সহজতর করা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান ১৩১ দশমিক ২০ কিলোমিটার মিটারগেজ ডাবল ট্র্যাককে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তরিত করার পর এই রুটে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় প্রকার ট্রেন চলাচল করতে পারবে। ঢাকাচট্টগ্রাম রেলপথের ২২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার ঢাকাটঙ্গী অংশ এবং ৭১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার আখাউড়ালাকসাম অংশকে ইতোমধ্যে মিটারগেজ সিঙ্গেল ট্র্যাক থেকে ডাবল ট্র্যাক ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তর করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ২২৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে রয়েছে ৯৭ দশমিক ০১ কিলোমিটার দীর্ঘ টঙ্গীভৈরব বাজারআখাউড়া অংশ এবং ১৩১ দশমিক ২০ কিলোমিটার লাকসামচট্টগ্রাম মিটারগেজ ডাবল ট্র্যাক। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে লাকসামচট্টগ্রাম অংশটিকে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তর করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাত্র ৪ শতাংশ কনটেইনার রেলপথে পরিবহন করা হয়। সরকার এই হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং ঢাকাচট্টগ্রাম করিডোর বরাবর গেজ একীভূত করার মাধ্যমে আংশিকভাবে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআদালতে সাবরেজিস্ট্রারের দুই সহযোগীর জবানবন্দি
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম কাস্টমসের একটি চালানের খালাস স্থগিত করে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়