হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল

| সোমবার , ২২ জুন, ২০২৬ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের মন্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে হট্টগোল হয়েছে। গতকাল রোববার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেটের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বক্তব্যের আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদেরও সমালোচনা করেন। খবর বিডিনিউজের।

নোয়াখালী৬ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বিএনপির দলীয় আকাঙ্ক্ষার দলিল। বাংলাদেশের বাস্তব পরিকল্পনার কোনো দলিল নয়।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দল মিছিল করছে মদের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে, সিগারেটের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরকম অসত্য তথ্য দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন, আমরা খুবই আশাহত হই। ব্যাংকের ঋণ নিয়ে, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে যখন আমরা কথা বলতে চাই, তখন প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বলেন, আপনারা সবাই জমিদার, যারা ঋণ নেন নাই। এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণকে উৎসাহিত করেন।’ এ পর্যায়ে সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, ‘সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। আমরা এই সংসদকে কার্যকর করার জন্য উভয় পক্ষের (সরকারি ও বিরোধী দল) সম্মতি চাই। এই সংসদে কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা না হোক; যাতে আমাদের সম্মানহানি হয়, সংসদ নেতাকে কটূক্তি করা হয়।’ তিনি হান্নান মাসউদের বক্তব্যের ওই অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ পর্যায়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কোনো বক্তব্য অসত্য দাবি করলে, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও ভুল করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্লিপ অব টাং হয়েছে, তিনি তার ভুল সংশোধন করেছেন। তার বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের আছে। উনি জিয়াউর রহমানের সন্তান, খালেদা জিয়ার সন্তান, প্রধানমন্ত্রী, সংসদনেতা, আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু তার মানে এই না যে তাকে নিয়ে কোনো কথাই বলা যাবে না। তার কোনো বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরাতো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি, ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যেতে চাচ্ছি না।’

পরে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের চিফ হুইপের বক্তব্য সঠিক নয়। সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবেই সংসদনেতা সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।’ এসময় বিরোধী দলের সদস্যরা হৈচৈ শুরু করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বলতে দিন, আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, ফ্যাসিস্টের আচরণতো আপনাদের কাছ থেকে আসছে।’ পরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে অংশটুকু অসত্য আছে, সেই অংশটুকু দয়া করে আপনি এঙপাঞ্জ করবেন। কারণ আমাদের সংসদনেতার বক্তব্য সম্পর্কে কোনো অসত্য বক্তব্য এখানে মেনে নেওয়া যাবে না।’ এসময় আবারও হান্নান মাসউদ দাঁড়ালে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসতে বলেন। এটা সংসদ, শাহবাগ চত্বর নয় বলেও মন্তব্য করেন কায়সার কামাল।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। বলেন, ‘সংসদের ভেতর ও বাইরের আলাদা নিয়ম আছে। বাইরের কোনো বিষয় টেনে এনে এখানে এঙপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়া কোনোটাই যেন অ্যালাও করা না হয়। কারণ আপনি এইমাত্র বলেছেন যে, এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়। তার মানে হচ্ছে সংসদের ভেতরে একটা সংসদীয় নর্মস আছে, বাইরেরও একটা গ্রামার আছে। যার যার গ্রামার সেই জায়গায় থাকুক।

বাইরের জবাব বাইরে দেব, সংসদের জবাব সংসদে হোক। তবে এটা সত্য, এটা অসত্য এই ঝগড়ায় যদি আমরা যাই, তাহলে অনেক কিছু আমাদের জন্য হয়ত লজ্জাজনক হয়ে যাবে।’ তিনি হট্টগোলের পুরো বিষয়টি উপেক্ষা করতে সংসদকে অনুরোধ করেন। জবাবে স্পিকার বলেন, আমরা সবকিছু বিচারবিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেব। এরপর তিনি বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চালিয়ে যান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
পরবর্তী নিবন্ধট্রাইব্যুনালে জিয়াউলের সাবেক রানারের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলী ‘গুমের’ বর্ণনা