নগরীর পাহাড়তলীতে ৯ বছর আগে ব্যবসায়ী আবু নাছের হত্যা মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন মো. ইসমাইল হোসেন সুজন। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তিনি পলাতক। এজন্য তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর আজাদীকে বলেন, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেছেন। ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ নগরীর পাহাড়তলী থানার অলংকার শপিং কমপ্লেঙে সুজনের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয় আবু নাছেরের। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় হত্যার অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অলংকার শপিং কমপ্লেঙের দ্বিতীয় তলায় মমতাজ টেলিকম নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন আবু নাছের। একই তলায় ফেরদৌস ওয়াহিদ নামে অপর একজন এস এম টেলিকম নামে একটি দোকান চালাতেন। এই দোকানের একটি অংশ মাসিক ভাড়ায় নিয়ে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন সুজন। পরে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তিনি অন্য একটি দোকান তথা জননী টেলিকমে স্থানান্তরিত হন। এরপর বকেয়া ভাড়া নিয়ে সুজনের সাথে ফেরদৌস ওয়াহিদের বিরোধ হয়। এর জেরে ঘটনার দিন ২৪ মার্চ রাতে আবু নাছেরকে সাথে নিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে জননী টেলিকমের ভেতরে সুজনের সাথে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঝগড়া থামাতে এগিয়ে আসেন আবু নাছের। এ সময় সুজন হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে একটি কাঁচি দিয়ে তার বুক ও তলপেটে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন আবু নাছের। উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্ত শেষে সুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় সুজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।









