পিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠা চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের দ্রুতযান স্পেশাল সার্ভিসের চালক আবদুর রহিমের (৩৫) লাশ গতকাল শনিবার রাউজানে বিনা ময়নাতদন্তে দাফন করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পুলিশ লাশটি রাউজান থেকে আবার ফেরত পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
নিহত ব্যক্তির মেডিকেল সার্টিফিকেটে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে লেখা হলে পরিবারের সদস্যরা লাশ রাউজানে গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করতে চেয়েছিল। এর আগে বাস শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করে দায়ীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসাইন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। নিহত পরিবহন শ্রমিক রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর শুক্কুরের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন আমিন জুটমিল এক নম্বর গেট এলাকায় নোহা গাড়িকে সাইট না দেওয়ায় দ্রুতযান স্পেশাল সার্ভিসের ওই চালককে বেধড়ক মারধর করেছিল নোহার গাড়ির যাত্রীরা। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই চালকের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান বলেছেন, অকালে সহকর্মীকে হারানোর প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। আমরা এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করছি। হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদুল আলম বলেন, নিহত পরিবহন শ্রমিক দুটি বিয়ে করেছিলেন। এক স্ত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করেন। গতকাল মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা রাউজানে দাফন করতে এনেছিল। পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকরা গিয়ে লাশ ফেরত পাঠান ময়নাতদন্তের জন্য।
এই প্রসঙ্গে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, মারা গেছে শহরে, জানাজাও শহরে হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া রাউজানে লাশ দাফনের চেষ্টা করেছিল, আমরা দাফন বন্ধ করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।













