সৌদি আরবের সামরিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে তুরস্ক

প্রতিরক্ষা চুক্তি

| সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুতিদের চলমান আক্রমণের কারণে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন থাকতে পারে আর তেমন হলে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোকে তুরস্ক সাহায্য করতে প্রস্তুত। খবর বিডিনিউজের।

মক্কায় স্বাক্ষরিত ওই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানও জোটবদ্ধ হয়েছে। গত মাসে হওয়া এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তিনটি দেশের যে কোনো একটি ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফিদান শনিবার গণমাধ্যম এনটিভিকে বলেছেন, আমরা সৌদি আরবের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হতে দেখছি। আমাদের চুক্তিতে একটি জোটবদ্ধতা রয়েছে। এই বিষয়ে আমরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি। তাদের সম্ভবত কিছু সামরিক চাহিদা আছে, বিশেষভাবে কিছু প্রাযুক্তিক বিষয়ে।

এগুলো পূরণে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। হুতিরা ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা জুলাইতে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা ঘটিয়েছিল এটি তার একটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হামলায় সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যস্থল করছে হুতিরা। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগরের বিকল্প রুট দিয়ে তেল রপ্তানি করে আসছিল রিয়াদ।

এখন এই বিকল্প রুটও হুমকির মুখে পড়ায় দেশটির তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সৌদি আরবের চাওয়া সামরিক সহায়তার অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন। গত বছর ইয়েমেনে হুতিদের ওপর দুই মাস ধরে বোমাবর্ষণ করেছিল ওয়াশিংটন, পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রইরানের যুদ্ধের অংশ করাটা অগ্রহণযোগ্য, কারণ এই সংঘাতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছাই তাদের ছিল না। তিনি জানান, লড়াই বন্ধের জন্য সব পক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।

ন্যাটো সামরিক জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের সঙ্গে করা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সমপ্রসারণের জন্য উন্মুক্ত এবং তারা বিদ্যমান কোনো জোটকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করছে না। পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলার জবাবে মক্কা চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে কোনো কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়নি, তবে সময় এলে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে। শনিবার ভোররাতে হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার বড় ধরনের কুণ্ডুলি দেখা গেছে। হুতিদের চালানো হামলার নিন্দা করে তুরস্ক তাদের অবিলম্বে থামতে বলেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসৌদি আরবের রাজধানীতে হামলার দায় স্বীকার হুতিদের
পরবর্তী নিবন্ধইরান যুদ্ধে মৃত মার্কিন সেনার সংখ্যা পেন্টাগনের হিসাবের চেয়েও বেশি : ওয়াশিংটন পোস্ট