সীতাকুণ্ডে থানার এক পুলিশ সদস্যকে মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে আটক করা হলেও প্রায় ৪ ঘণ্টা পর পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড বারৈয়াঢালা ২ নম্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন তার ব্যক্তিগত গাড়ি সীতাকুণ্ড মডেল থানার আঙিনায় পার্কিং করছিলেন। বিষয়টি নজরে পড়লে থানার ওসির গাড়ি চালক কনস্টেবল মো. শফিকের। পরে শফিক সামনে এগিয়ে এসে যুবদল নেতা ইসমাইলকে গাড়ি পার্কিং করতে নিষেধ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে বিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে মো. শফিক আহত হন। পরে থানা পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ ওই যুবদল নেতাকে আটক করে। এদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেন অটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে থানার সামনে যুবদলের কর্মীরা ভিড় জমান এবং ইসমাইলের মুক্তির দাবি করেন। উত্তেজনা দেখা দিলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম সমাধানের জন্য বৈঠকে বসেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ইসমাইল তার ভুল স্বীকার করেন এবং মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্যকাজে বাধা প্রদানের অভিযোগের ভিত্তিতে যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিন্ধান্ত কার্যকর করেন। যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যটি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়–দায়িত্ব দল নিবে না।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মুচলেকা দিলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাকে দল থেকেও নাকি বহিষ্কার করেছে। ওসি বলেন, এর থেকে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?













